রাজধানীতে গৃহকর্মীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার
রাজধানীর রমনা থানার ইস্পাহানি কলোনিতে এক দশ বছর বয়সী গৃহকর্মী সুফিয়া আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (১৪ জুলাই) ভোরে ভবনের অষ্টম তলার বাথরুম থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
রমনা মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহিদুল ইসলাম জানান, “ভোর সাড়ে ৪টার দিকে খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। দেখা যায়, একটি ঝরনার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে অচেতন অবস্থায় ঝুলছে মেয়েটি। তাকে দ্রুত উদ্ধার করে সকাল ৭টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়, তবে চিকিৎসক তখনই মৃত ঘোষণা করেন।”
নিহত সুফিয়া আক্তার (১০) সুনামগঞ্জ জেলার কাউকান্দিচাহেরপুর থানার ব্রাহ্মণগাঁও গ্রামের মো. জালাল উদ্দিনের মেয়ে। তিনি ওয়াইসিস আবাসিক এলাকায় একটি পরিবারের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিলেন।
পুলিশ বলছে, মৃত্যুর কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। এটি আত্মহত্যা না কি এটি কোনো সহিংসতার ফল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
“ময়না তদন্তের রিপোর্ট ছাড়া কিছু নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। তবে আমরা সম্ভাব্য সব দিক বিবেচনায় নিয়ে তদন্ত করছি,” বলেন এসআই জাহিদুল।
সামাজিক সংগঠন ও শিশু অধিকারকর্মীরা প্রশ্ন তুলছেন, মাত্র দশ বছর বয়সী একজন শিশু কেন রাজধানীর বহুতল ভবনে গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিল?
একজন শিশু অধিকারকর্মী বলেন, “এই ধরনের মৃত্যুর পেছনে প্রায়ই নির্যাতন, অবহেলা ও মানসিক চাপ জড়িত থাকে। আইন থাকা সত্ত্বেও শিশুশ্রম ও গৃহকর্মী নির্যাতনের বাস্তবতা অস্বীকার করা যায় না।”
বাংলাদেশে এখনও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশু গৃহকর্ম হিসেবে কাজ করে। যদিও ২০১৫ সালের ‘গৃহকর্মী সুরক্ষা ও কল্যাণ নীতিমালা’ অনুযায়ী ১৪ বছরের নিচের শিশুদের গৃহকর্মে নিয়োগ দেওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
রমনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ থাকলে মামলা পুনঃবিবেচনার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।


