প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে নীরব ইসি
২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাখিলকৃত হলফনামায় সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত চালালেও আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে নির্বাচন কমিশন (ইসি) তাঁর নির্বাচনী গেজেট বাতিল করতে পারেনি।
দুদকের তদন্ত প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, শেখ হাসিনা ২০০৮ সালের নির্বাচনে মনোনয়নপত্রে জমা দেওয়া হলফনামায় প্রায় ২২ একর জমি, প্রায় ২ কোটি টাকার অস্থাবর সম্পদ এবং প্রায় ১.৯৩ কোটি টাকার মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ির তথ্য গোপন করেন। দুদক বলছে, এই বিষয়গুলো “গুরুতর অসত্য তথ্য প্রদান” হিসেবে গণ্য হয় এবং আইনি পদক্ষেপের সুপারিশ করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (RPO)-এ গেজেট জারি হওয়ার পর তা বাতিলের কোনো বিধান নেই। ফলে এমনকি প্রমাণিত মিথ্যা তথ্য থাকলেও, কমিশনের পক্ষে সাংসদ পদ বাতিল করা সম্ভব নয়।
ইসি সচিবালয়ের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, “হলফনামায় তথ্য গোপন করলেও, যদি সেই মনোনয়ন যাচাইয়ের সময় রিটার্নিং অফিসার তা চ্যালেঞ্জ না করেন, তাহলে কমিশনের ক্ষমতা সীমিত হয়ে যায়। বর্তমানে গেজেট জারি হয়ে গেলে আমরা আর আইনগতভাবে পদক্ষেপ নিতে পারি না।”
দুদকের উপপরিচালক মাসুদুর রহমানের নেতৃত্বে চালানো তদন্তে শেখ হাসিনার সম্পদ গোপনের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উঠে আসে। তদন্ত শেষে দুদক আইনের অধীনে দুটি ধারায় মামলা করার সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি সুপারিশ করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন, এনবিআর এবং দুদকের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর মাধ্যমে ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলোতে হলফনামা যাচাইয়ের ব্যবস্থা নেওয়ার।
নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন, এই ঘটনাটি প্রমাণ করে যে RPO-তে ত্রুটি ও ঘাটতি রয়েছে, যা অসাধু প্রার্থীদের দায়মুক্তি দেয়। নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সদস্য আবদুল আলীম বলেন, “হলফনামা শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়; এটি নির্বাচনযোগ্যতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ দলিল। অথচ যাচাই-বাছাই না থাকায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য চাপা পড়ে যায়।”
তিনি আরও বলেন, “প্রার্থীর সম্পদ ও অপরাধসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ে ইসি, এনবিআর, দুদক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর মধ্যে তথ্য বিনিময় এবং সমন্বয় নিশ্চিত করতে হবে।”


