‘আমি সম্পূর্ণ সুস্থ, আমাকে নিহত বলে অপপ্রচার চালাচ্ছে ছাত্রলীগ’
“আমি জীবিত, সুস্থ এবং পরিবারের সঙ্গেই আছি। অথচ আমার ছবি ও পরিচয় বিকৃত করে ‘রমজান কাজী’ নামে আমাকে গোপালগঞ্জে নিহত ছাত্রলীগ কর্মী বলে প্রচার করা হয়েছে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মানহানিকর।” — এক সংবাদ সম্মেলনে ক্ষোভের সঙ্গে এভাবেই বক্তব্য দিলেন সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলার বাসিন্দা জুলকার নাইম।
বুধবার গোপালগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে চারজন নিহত হওয়ার খবর ছড়ায়। তাদের মধ্যে কোটালীপাড়ার ‘রমজান কাজী’ নামে যাকে নিহত বলে প্রচার করা হয়, সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া সেই ছবিটি আসলে সিরাজগঞ্জের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া জুলকার নাইমের।
বৃহস্পতিবার বিকেলে কামারখন্দ প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নাইম বলেন, “আমি কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত নই। আমার পুরনো আন্দোলনের ছবি ও ভিডিওকে বিকৃতভাবে ব্যবহার করে ছাত্রলীগের কিছু আইডি থেকে অপপ্রচার চালানো হয়েছে।”
তার বাবা মো. আলী আক্কাস সরকার বলেন, “আমার ছেলে বাড়িতে নিরাপদেই আছে। অথচ তাকে মৃত দেখিয়ে যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে, তাতে আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত।”
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত স্থানীয় সাংবাদিক ও শিক্ষার্থীরাও এই বিভ্রান্তিকর তথ্যের তীব্র নিন্দা জানান এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ ও সংশোধনের দাবি তোলেন।
গতকাল গোপালগঞ্জে এনসিপির কর্মসূচিকে ঘিরে সংঘর্ষে চারজন নিহত হন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। নিহতদের মধ্যে রমজান কাজী, দীপ্ত সাহা, সোহেল রানা ও ইমন তালুকদারের নাম ছড়ানো হয়। কিন্তু এর মধ্যে রমজান কাজী নামটি যে প্রকৃতপক্ষে জুলকার নাইমের ভুল পরিচয়ে ছড়ানো হয়েছে — তা নিয়েই সৃষ্টি হয় বিতর্ক।
এ ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তথ্য যাচাই ছাড়াই প্রচার করা কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। ভুয়া তথ্য ছড়ানো শুধু ব্যক্তি নয়, সমাজের সামগ্রিক বিশ্বাসযোগ্যতাকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে।


