আফতাবনগর-বনশ্রী সংযোগে নির্মাণ হবে দুই সেতু
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ জানিয়েছেন, আফতাবনগর ও বনশ্রীর মধ্যে যাতায়াতের জন্য বিকল্প সংযোগ নিশ্চিত করতে নড়াই নদীর উপর দুটি সেতু নির্মাণ করা হবে। এতে দুই আবাসিক এলাকার মধ্যে সহজ ও সরাসরি যোগাযোগ স্থাপন সম্ভব হবে।
শনিবার বনশ্রীর খালপাড় এলাকায় ‘ময়লা পরিষ্কার ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সমমনা পরিষদ, বনশ্রী, আর এতে সার্বিক সহায়তা দেয় ডিএনসিসি।
প্রশাসক জানান, প্রস্তাবিত সেতুগুলোর নাম হবে ‘নড়াই সেতু’। তিনি বলেন, “এই খাল, যেটিকে এখন বনশ্রী খাল বলা হয়, তা একসময় ছিল প্রবাহমান নড়াই নদী। দখল ও দূষণের ফলে সেটি খালে পরিণত হয়েছে। ইতোমধ্যে পানি উন্নয়ন বোর্ড একে পুনরায় নদী হিসেবে তালিকাভুক্ত করেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা যদি এই নদীকে রক্ষা করতে পারি, তবে ভবিষ্যতে রামপুরা থেকে শীতলক্ষ্যা, ধলেশ্বরী ও বালু নদী হয়ে সদরঘাট বা মিরপুর পর্যন্ত নৌপথে যাত্রী পরিবহন চালুর সুযোগ সৃষ্টি হবে।”
গণমাধ্যমে দেয়া বক্তব্যে প্রশাসক চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “চাঁদাবাজ সিন্ডিকেটের কারণে ঢাকার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং ফুটপাত দখলমুক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।” একইসাথে তিনি জানান, গুলশান, বনানী ও বারিধারা লেকের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য বিশ্বব্যাংকের সহায়তায় একটি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন চলছে।
বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম উদ্বোধনের সময় প্রশাসক বলেন, “শুধু গাছ লাগালেই হবে না, কমপক্ষে ২-৩ বছর ধরে তার পরিচর্যার ব্যবস্থা রাখতে হবে, তবেই একটি টেকসই সবুজ পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।”
তিনি নগরবাসীর প্রতি খালে ময়লা না ফেলার এবং পরিবেশ রক্ষায় সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সমমনা পরিষদ, বনশ্রীর সভাপতি মো. শাহবুদ্দিন শিকদার। কর্মসূচির অংশ হিসেবে নানজিং কমিউনিটি সেন্টার থেকে খালপাড় পর্যন্ত ময়লা পরিষ্কার এবং বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রোপণ করা হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, স্বেচ্ছাসেবক দল ও ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতা বিভাগের সদস্যরা অংশ নেন।


