চাঁদাবাজির ভয়ে মুখ বন্ধ ঠিকাদারের, রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের লিফট স্থাপনায় মামলা করলো পুলিশ
রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ২৫০ শয্যার নতুন ভবনে লিফট স্থাপনের সময় চাঁদাবাজির অভিযোগে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পুলিশ নিজেই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছে। প্রশাসনের নড়েচড়ে বসার পরই এ পদক্ষেপ নেয়া হয়, তবে নির্মাণ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো নিরাপত্তার আশঙ্কায় মামলা করতে রাজি হয়নি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গত ২১ জুলাই (সোমবার) সকালে গণমাধ্যমে ‘চাঁদা না দেওয়ায় রাজবাড়ীতে হাসপাতালের লিফটের কাজ বন্ধ’ শীর্ষক একটি প্রতিবেদন প্রকাশের পর ঘটনাটি জেলাজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়।
ঘটনার তদন্তে মাঠে নামেন সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সোহেবুর রহমান। তিনি জানান, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান এবং গণপূর্ত বিভাগ নিরাপত্তার কারণে মামলা করতে রাজি না হওয়ায় পুলিশই বাদী হয়ে পেনাল কোডের ১৪৩/৪৪৮/৩৮৫/৫০৬ ধারায় মামলা দায়ের করে।
এজাহারে বলা হয়, গত ১৯ জানুয়ারি দুপুরে ৮-১০ জনের একটি দল সদর হাসপাতালের নির্মাণাধীন ভবনে প্রবেশ করে লিফট টেকনিশিয়ান ও ইঞ্জিনিয়ারদের কাছে চাঁদা দাবি করে এবং হুমকি দেয়। চাঁদা না দেওয়ায় ভবিষ্যতে ফের আসার হুমকিও দেয় তারা।
এর আগেই গত ২০ জুলাই রাজবাড়ী অফিসার্স ক্লাবে অনুষ্ঠিত উন্নয়ন সমন্বয় সভায় এ বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার। সভায় গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম জানান, চাঁদা দাবির কারণে লিফট স্থাপন কাজ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং কর্মীরা আতঙ্কে আছেন।
সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহমুদুর রহমান বলেন, “ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। চাঁদাবাজদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চলছে।”


