জুলাই গণঅভ্যুত্থানে চোখ হারানো ১১ তরুণ ও তাদের পরিবার পেলেন ওমরাহ যাওয়ার সুযোগ
বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণীয় জুলাই গণঅভ্যুত্থান যখন অবিস্মরণীয় হয়ে উঠেছিল, তখন তা দেশের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিবর্তনের এক মাইলফলক হয়ে দাঁড়ায়। গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহে আহত যারা হয়েছিলেন, তাদের মধ্যে ১১ জন তরুণ চোখ হারিয়ে নিজেকে হারিয়ে ফেলেছিলেন। কিন্তু এবার তাদের জন্য এক নতুন দিগন্তের সূচনা ঘটলো। একটি বেসরকারি উদ্যোগ তাদের জন্য পবিত্র ওমরাহ পালনের সুযোগ তৈরি করেছে।
২৬ জুলাই, শনিবার সন্ধ্যায় হোটেল সোনারগাঁও-এ আয়োজিত ‘জুলাই পুনর্জাগরণ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে ১১ তরুণের হাতে দেওয়া হয় বিমানের টিকিট এবং ৫০ হাজার টাকার আর্থিক সহায়তা। ২২ জনের দল, যারা সকলেই আহতদের পরিবারসহ পবিত্র ওমরাহ পালনে সৌদি আরব যাচ্ছেন, তাদের মধ্যে ১১ জন তরুণ ছিলেন যাদের চোখের দৃষ্টিশক্তি তারা হারিয়েছেন।
আয়োজক প্রতিষ্ঠান স্কাই ক্যাপিটাল এয়ারলাইন্স এবং ইউএস-বাংলা এয়ারলাইন্স সহযোগিতায় এই উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করেছে। প্রত্যেক তরুণের সাথে তাদের একজন অভিভাবক থাকবে, কারণ তাদের চলাফেরা করতে সহযোগিতা প্রয়োজন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন এবং বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন লুৎফে সিদ্দিকী, নাসরীন জাহান, খায়ের আহমেদ চৌধুরী, ডা. যাকিয়া সুলতানা নীলা সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। তারা এই তরুণদের যাত্রাকে দেশের জন্য এক বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন এবং এর মাধ্যমে সরকারের প্রতি তরুণদের সহায়তা এবং সম্মানের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এই তরুণরা শুধুমাত্র চোখ হারায়নি, তারা হারিয়েছে এক ধরনের স্বাধীনতা, কিন্তু তারা তাদের আত্মসম্মান কখনো হারায়নি। তাদের এই আত্মত্যাগ এবং সংগ্রামকে সম্মান জানাতে এই ওমরাহ যাত্রার আয়োজন করা হয়েছে, যা শুধু ভ্রমণ নয়, বরং মানসিক এবং আধ্যাত্মিক শান্তির একটি প্রয়াসও।
আয়োজকরা জানান, এ উদ্যোগটির লক্ষ্য শুধু একটি সুযোগ সৃষ্টি করা নয়, বরং এই তরুণদের প্রতি রাষ্ট্র এবং সমাজের দায়বদ্ধতার প্রতীক হয়ে দাঁড়ানো। অনুষ্ঠানে সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়, ভবিষ্যতে যেন এই তরুণদের পাশে আরও শক্তভাবে দাঁড়ানো হয়।
এই উদ্যোগ শুধু এক সামান্য সাহায্য নয়, বরং একটি গভীর সম্মাননা প্রদর্শন। শহীদ ও আহতদের পরিবারের প্রতি সমর্থন এবং তাদের সাহসিকতার স্বীকৃতি জানিয়ে সকল অংশগ্রহণকারীরা বিশ্বাস করেন যে, এই তরুণরা শুধু নিজেদের জন্য নয়, বরং দেশের ভবিষ্যতের জন্য এক অসীম উৎসাহের প্রতীক হয়ে থাকবে।
এটি শুধু একটি মানবিক উদ্যোগ নয়, বরং ঐতিহাসিকভাবে জুলাই গণঅভ্যুত্থান–এর আন্দোলনকে সম্মানিত করার এক সশক্ত পদক্ষেপ।


