চালের মূল্য বৃদ্ধিতে স্বল্পতা নাকি কারসাজি?

চালের মূল্য বৃদ্ধিতে স্বল্পতা নাকি কারসাজি?
নিউজ ডেস্ক
৩০ জুলাই ২০২৫

বোরো মৌসুম শেষের পথে, মাঠ থেকে উঠে এসেছে বিপুল পরিমাণ ধান। তারপরও কমেনি চালের দাম—বরং বেড়েছে কয়েক দফায়। কৃষক ও বাজার সংশ্লিষ্টদের অনেকে বলছেন, ধানের উৎপাদন খরচ বাড়ায় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে মিল মালিক ও বড় ব্যবসায়ীদের ‘মজুতদারি’ ও বাজার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ তুলছেন ভোক্তা ও খুচরা বিক্রেতারা।

রাজধানীর বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায়, মোটা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকায়, মিনিকেট ও নাজিরশাইলের দাম ৭০-৯০ টাকার মধ্যে। ৫০ কেজির বস্তায় দাম বেড়েছে ৩৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত। ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিলারদের কাছ থেকে নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ না পাওয়ায় বেশি দামে কিনতে হচ্ছে চাল, যার প্রভাব পড়ছে ভোক্তা পর্যায়ে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর বোরো ধানের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ কোটি ২৬ লাখ টন, যা গত বছরের তুলনায় ১৬ লাখ টন বেশি। প্রতি হেক্টরে ফলনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪.৪৬ টন। তবে বাস্তব চিত্র ভিন্ন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকরা বলছেন, সার, সেচ ও ডিজেলের খরচ বেড়ে যাওয়ায় ধান উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। খুচরা কৃষকরা বলছেন, মিলারদের কাছ থেকে ধানের ন্যায্য দাম না পাওয়ার ফলে তারা ক্ষতিগ্রস্ত। বরগুনার কৃষক নেয়ামত আলি বলেন, “আমরা কম দামে ধান বিক্রি করে এখন বেশি দামে চাল কিনছি।”

সরকার এবার ৩৬ টাকা কেজি দরে ধান এবং ৪৯ টাকা দরে চাল কিনছে। সংগ্রহ কার্যক্রম চলবে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। পাশাপাশি আমন ধানের সম্ভাব্য ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সরকার ও বেসরকারি খাত মিলে প্রায় ৯ লাখ টন চাল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) বলছে, বেসরকারি খাত আমদানির অনুমতি পেলেও আমদানিতে আগ্রহী নয়, কারণ তাদের গুদামে পর্যাপ্ত চাল মজুত রয়েছে। ক্যাবের সহ-সভাপতি এস এম নাজের হোসাইন বলেন, “বাজারে চালের দামে কারসাজি হচ্ছে, অথচ সরকারের নজরদারি নেই। এলসি না খোলা, গুদামে আটকে রাখা চাল, সবই মনিটরিংয়ের বাইরে।”

পরিকল্পনা কমিশনের জুলাইয়ের ‘ইকোনমিক আপডেট অ্যান্ড আউটলুক’ অনুযায়ী, দেশে অন্যান্য পণ্যের দাম কমলেও চালের দাম বাড়ছে, যা সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে চাপ দিচ্ছে। জুন মাসেই চালের দামে মূল্যস্ফীতি ছিল ১৫ শতাংশ।

বিশেষজ্ঞ ও ভোক্তা সংগঠনগুলো বলছে, চালের বাজার স্বাভাবিক রাখতে উৎপাদন খরচ নিয়ন্ত্রণ, মিলারদের নজরদারির আওতায় আনা এবং সরকারি সংগ্রহ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও গতি আনতে হবে। নাজের হোসাইন বলেন, “চাল আমদানি করে সাময়িক সমাধান হয়, কিন্তু টেকসই সমাধান বাজার ব্যবস্থাপনায় ন্যায্যতা ফেরানো।”