বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ৪ কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ

অপরাধ
বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে ৪ কোটি টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগ
নিউজ ডেস্ক
২ আগস্ট ২০২৫

যশোরের অভয়নগর উপজেলার শিল্পনগরী নওয়াপাড়ায় স্থানীয় এক ব্যবসায়ীর কাছ থেকে জোরপূর্বক ৪ কোটি টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির এক সাবেক নেতা ও স্থানীয় এক সাংবাদিকের বিরুদ্ধে। প্রায় এক বছর আগের এই ঘটনার লিখিত অভিযোগে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অপহরণ ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ আনা হয়েছে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী শাহনেওয়াজ কবীর টিপুর স্ত্রী আসমা খাতুন সম্প্রতি অভয়নগর থানায় এবং স্থানীয় সেনা ক্যাম্পে পৃথক অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন অভয়নগর পৌর বিএনপির বহিষ্কৃত সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুজ্জামান জনি এবং নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মফিজ উদ্দিন।

লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর ব্যবসায়ী শাহনেওয়াজ কবীর টিপুকে কৌশলে একটি অফিসে ডেকে নিয়ে গিয়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রথম দফায় ২ কোটি টাকা আদায় করা হয়। ওই টাকা তার স্ত্রী ব্যাংকের মাধ্যমে জনির প্রতিষ্ঠানের অ্যাকাউন্টে পাঠাতে বাধ্য হন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এরপর একই বছরের ১৮ সেপ্টেম্বর ব্যবসায়ী টিপুকে আবারও অপহরণ করে দ্বিতীয় দফায় মারধর এবং বালু চাপা দিয়ে হত্যার হুমকি দিয়ে আরও ২ কোটি টাকা দাবি করা হয়। এরপর এক কোটি টাকা নগদ ও বাকি অর্থ চেক এবং ফাঁকা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযোগ জানাজানি হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান জনি ও মফিজ উদ্দিন গা ঢাকা দিয়েছেন। তাদের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।

অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল আলিম বলেন, “লিখিত অভিযোগ আমরা পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, “জনিকে আগেই দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এ ঘটনায় দলের কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।”

অন্যদিকে, নওয়াপাড়া প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় সাংবাদিকদের একাংশ বিষয়টি খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন।

একজন ব্যবসায়ীর কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের ঘটনায় রাজনৈতিক ও সাংবাদিক মহলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন।