লিটারে নয় কেজিতে তেল বিক্রি, ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ
বাজারে সরকারের নির্ধারিত লিটারমূল্য উপেক্ষা করে এখনও কেজি হিসেবে বিক্রি হচ্ছে খোলা ভোজ্যতেল। বাংলাদেশ ট্রেড অ্যান্ড ট্যারিফ কমিশনের (বিটিটিসি) এক সরেজমিন প্রতিবেদন থেকে এমন অনিয়মের চিত্র উঠে এসেছে।
সোমবার (১৮ আগস্ট) প্রকাশিত কমিশনের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাজারে খোলা সয়াবিন ও পাম তেল লিটার নয়, কেজি হিসেবে বিক্রি হচ্ছে—যা স্পষ্টভাবে নিয়মবিরোধী। ‘অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন পরিবেশক নিয়োগ আদেশ, ২০১১’-এর বিধি অনুযায়ী তরল পণ্যের পরিমাপ অবশ্যই লিটারে হতে হবে।
কমিশনের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, চলতি বছরের ৩ আগস্ট বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পরামর্শে বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন খোলা তেলের দাম নির্ধারণ করে লিটারভিত্তিক। অথচ মাঠ পর্যায়ে ব্যবসায়ীরা তা মানছেন না।
এছাড়াও, বাজারে খোলা পাম তেল সরকার নির্ধারিত দামের তুলনায় লিটারপ্রতি ৫ টাকা পর্যন্ত বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে বলে জানানো হয় প্রতিবেদনে।
কমিশনের পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, মিলগেট থেকে শুরু করে খুচরা বাজার পর্যন্ত কোথাও মূল্য মনিটরিং ব্যবস্থা কার্যকরভাবে প্রয়োগ হচ্ছে না। এর ফলে ব্যবসায়ীরা অনিয়মিত ও অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রি করলেও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।
ট্যারিফ কমিশনের তিন সুপারিশ:
১. খোলা তেল কেজিতে বিক্রি বন্ধ করে লিটারে বিক্রির বিষয়টি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন।
২. অতিরিক্ত দামে খোলা তেল বিক্রির বিরুদ্ধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে মাঠপর্যায়ে অভিযান পরিচালনার আহ্বান।
৩. মিলগেট থেকে খুচরা পর্যন্ত ভোজ্যতেলের দামের উপর নজরদারি জোরদার করা।
নগরীর বাজারগুলো ঘুরে দেখা গেছে, খোলা সয়াবিন ও পাম তেল এখনও ৫-১০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। একজন ভোক্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “সরকার লিটারপ্রতি দাম ঠিক করে, কিন্তু দোকানে গেলে কেজি ধরে নেয়। আমরা বুঝতেই পারি না আদৌ ঠিক দাম দিচ্ছি কি না!”


