পাঁচ ব্যাংকের নাম হতে পারে ইউনাইটেড ইসলামী বা আল ফাতাহ

পাঁচ ব্যাংকের নাম হতে পারে ইউনাইটেড ইসলামী বা আল ফাতাহ
নিউজ ডেস্ক
১৯ আগস্ট ২০২৫

লুটপাটে জর্জরিত ও বিতর্কিত পাঁচ শরিয়াহভিত্তিক বেসরকারি ব্যাংককে একীভূত করে একটি নতুন ব্যাংক গঠনের কার্যক্রম চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে এসেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ‘আল-ফাতাহ ইসলামী ব্যাংক’ বা ‘ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক’ নামে নতুন ব্যাংকটির আত্মপ্রকাশ হতে পারে অক্টোবরেই। সংশ্লিষ্টরা জানাচ্ছেন, ব্যাংক খাতে আস্থা ফেরাতেই সরকারের এই পদক্ষেপ।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একাধিক সূত্র জানায়, ইতোমধ্যেই সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও এক্সিম ব্যাংক—এই পাঁচটি ব্যাংককে একীভূতকরণের জন্য সম্মতি দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এখন অপেক্ষা কেবল অর্থ মন্ত্রণালয়ের চূড়ান্ত অনুমোদনের।

এস আলম গ্রুপ ও নজরুল ইসলাম মজুমদারের নেতৃত্বে পরিচালিত এই ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতি, নিজেরা নিজের ব্যাংক থেকে ঋণ তুলে নেওয়া এবং আমানতকারীদের টাকায় ব্যবসা চালানোর অভিযোগ রয়েছে। সরকারের দাবি, এই ব্যাংকগুলোর লুটপাটে ব্যাংকিং খাত বড় ধাক্কা খেয়েছে। একীভূতকরণ সেই ধাক্কা সামলানোর উদ্যোগ।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র বলছে, নতুন ব্যাংকের নাম ঠিক না হলেও দুটি নাম নিয়ে এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে—আল-ফাতাহ ইসলামী ব্যাংক ও ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক। যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে ব্যাংকগুলো এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছ থেকে আরও নাম প্রস্তাব চাওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, পাঁচ ব্যাংকের পুনর্গঠন ও একীভূতকরণে আনুমানিক ৩০–৩৫ হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন হবে। এর মধ্যে ১৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে সরকার। বাকি অর্থের জোগান আসবে বিশ্বব্যাংক, এডিবি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক উৎস থেকে, যেখানে ২ বিলিয়ন ডলারের প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেছে।

পাঁচ ব্যাংক একীভূত করে নতুন ব্যাংককে একটি শক্তিশালী এসএমই ভিত্তিক ইসলামি ব্যাংক হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এর লক্ষ্য হবে গ্রামীণ অর্থনীতিতে প্রাণ ফিরিয়ে আনা ও ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের সাপোর্ট দেওয়া।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানিয়েছে, সব ধরনের আমানতকারী, বিশেষ করে ক্ষুদ্র আমানতকারীদের শতভাগ অর্থ সুরক্ষিত থাকবে। বড় অঙ্কের আমানতকারীদের কিছু ক্ষেত্রে শেয়ারে রূপান্তরের প্রস্তাব থাকলেও কেউ টাকা হারাবে না।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর ঘোষণা দিয়েছেন, ব্যাংক একীভূত হলেও কোনো কর্মী ছাঁটাই হবে না। বরং দক্ষতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী পুনর্বিন্যাস করা হবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, লুটপাট-পরবর্তী এই একীভূতকরণ অভাবনীয় একটি পদক্ষেপ, যা সফল হলে ব্যাংক খাতে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে। তবে অদক্ষ ব্যবস্থাপনা বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ একে আবার ব্যর্থতায় পরিণত করতে পারে বলেও আশঙ্কা রয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের সাবেক অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন বলেন, “এটি একটি বড় পরীক্ষার মতো। সফল হলে আস্থা ফিরবে; ব্যর্থ হলে আরও সংকট তৈরি হবে।”