জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির পাশাপাশি স্থানীয় নির্বাচনেও সরব জামায়াত
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রাক্কালে দেশের রাজনীতিতে যখন অনিশ্চয়তা ও অপেক্ষার পরিস্থিতি, তখন নির্বাচনী মাঠ গোছাতে সক্রিয় ভূমিকায় দেখা যাচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের। জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরেও তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত ব্যাপক প্রস্তুতির মধ্যে রয়েছে দলটি।
জুলাই মাসে সংঘটিত গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বিশেষ করে জামায়াত ও ছাত্র সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন আয়োজনের দাবি উঠেছিল। তবে সংসদ নির্বাচনের সম্ভাব্য সময়সূচি ঘোষণা হওয়ায় আপাতত সেই সম্ভাবনা দূরে সরে গেছে। যদিও তাতেও থেমে নেই জামায়াতের প্রস্তুতি।
জাতীয় নির্বাচন সামনে রেখে দেশের ৩০০টি সংসদীয় আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াতে ইসলামী। পাশাপাশি সংগঠনিকভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও জোর প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পরিষদ পর্যায়ে একাধিক প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে দলটি।
নোয়াখালী-১ আসনের প্রার্থী অধ্যক্ষ মাওলানা ছাইফ উল্লাহ বলেন,
“উভয় নির্বাচন নিয়েই আমাদের প্রস্তুতি রয়েছে। জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতির দিকেই আপাতত বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি, তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও আমাদের প্রার্থীরা এলাকায় সেবামূলক কাজের মাধ্যমে সক্রিয় রয়েছেন।”
জামায়াতের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতারা জানিয়েছেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে জাতীয় নির্বাচনের আগেই প্রার্থীদের পরিচিতি বাড়ানো এবং সংগঠনকে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রাখাই মূল লক্ষ্য। এতে জাতীয় নির্বাচনের প্রচার কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন দলীয় নেতারা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জামায়াতের কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার এক সদস্য বলেন,
“আমরা দু’টি নির্বাচন সামনে রেখে প্রস্তুতি নিচ্ছি। স্থানীয় নির্বাচন আপাতত অনিশ্চিত হলেও আমাদের কর্মপরিকল্পনায় সেটিও রয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় কিছু জায়গায় প্রার্থী পরিবর্তন হতে পারে।”
খুলনা বিভাগের নড়াইল, নোয়াখালী, এবং লক্ষ্মীপুরসহ বেশ কয়েকটি জেলার ইউনিয়ন ও পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করেছে জামায়াত। যেমন:
-
নড়াইল সদর উপজেলা পরিষদ: চেয়ারম্যান পদে আইয়ুব হোসেন খান, ভাইস চেয়ারম্যান হাফেজ মাওলানা আব্দুল্লাহ আল-আমিন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান মাজেদা বেগম।
-
নড়াইল পৌরসভা: মেয়র পদে মো. হেমায়েতুল হক হিমু।
-
চাটখিল উপজেলা, নোয়াখালী: বিভিন্ন ইউনিয়নে প্রার্থী ঘোষণা।
-
রামগঞ্জ উপজেলা, লক্ষ্মীপুর: ইউনিয়ন পর্যায়ে একাধিক প্রার্থী মনোনীত।
এছাড়া দলীয় ছাত্রসংগঠন শিবিরের সাবেক নেতারাও বিভিন্ন পদে প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হচ্ছেন।
স্থানীয় পর্যায়ে কোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ বিরোধ নেই বলেই দাবি করেছেন জামায়াত নেতারা। কাঞ্চনপুর ইউনিয়নের এক নেতার ভাষ্য,
“দীর্ঘদিন ধরে আমাদের ওপর দমন-পীড়ন চলে আসছে। এখন আমরা সংগঠিতভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছি। প্রার্থী মনোনয়নে কোনো লোভ-সিন্ডিকেট নেই, বরং শৃঙ্খলার মধ্য দিয়েই সিদ্ধান্ত হচ্ছে।”
জামায়াতের সিনিয়র নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমান বলেন,
“জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় নির্বাচন হলে সেটি গণতন্ত্রের পরিবেশ যাচাইয়ের ভালো সুযোগ হতো। এখন কে কীভাবে প্রস্তুতি নিচ্ছে সেটা বড় কথা নয়। আমরা জনগণের দাবি ও অধিকার নিয়ে মাঠে আছি।”
জাতীয় নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসছে, রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা ততই বাড়ছে। তবে জামায়াত যেভাবে আগেভাগে প্রার্থী ঘোষণা ও সংগঠন গোছানোর কাজ করছে, তা দলটির নির্বাচনী কৌশল ও রাজনৈতিক পুনঃস্থাপনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে এধরনের প্রস্তুতি দলীয় ভিত্তি আরও মজবুত করতে পারে—বিশেষ করে তৃণমূলে।


