প্রবৃদ্ধি কমে যাওয়ায় ক্যানভায় বড় পরিবর্তন
জনপ্রিয় গ্রাফিক ডিজাইন প্ল্যাটফর্ম ক্যানভায় বড় ধরনের সাংগঠনিক পুনর্গঠন শুরু হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির মোট কর্মীর প্রায় ২২ শতাংশ, অর্থাৎ ১ হাজার ২৭১টি পদ এ পরিবর্তনের আওতায় আসছে। গত এক দশকের মধ্যে প্রথমবার প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়ায় জনবল ও ব্যবস্থাপনা কাঠামোয় এ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠানটি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পুনর্গঠনের আওতায় থাকা সব পদ থেকেই কর্মী ছাঁটাই করা হবে না। এর মধ্যে চাকরি হারানোর পাশাপাশি দায়িত্ব পরিবর্তন এবং কর্মীদের অন্য স্থানে স্থানান্তরের বিষয়ও রয়েছে।
ক্যানভার সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মেলানি পারকিনস জানিয়েছেন, প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম আরও সহজ, গতিশীল ও কার্যকর করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে পণ্য উন্নয়ন, প্রবৃদ্ধি এবং প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্ম-সংশ্লিষ্ট দলগুলোকে একীভূত করে একটি সমন্বিত পণ্য বিভাগ গঠন করা হবে। এতে বিভিন্ন দলের মধ্যে কাজের সমন্বয় বাড়বে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ হবে।
পাশাপাশি ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন স্তর কমিয়ে কর্মীদের দায়িত্ব পুনর্বণ্টন করা হবে। এর মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি পর্যায়ে জবাবদিহি ও কাজের গতি বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।
পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে পণ্য উন্নয়ন দলের প্রধান কর্মস্থল হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার সিডনিকে আরও গুরুত্ব দিচ্ছে ক্যানভা। এ কারণে কিছু কর্মীকে সিডনিতে স্থানান্তরের প্রস্তাব দেওয়া হবে। আগামী জানুয়ারি থেকে হাইব্রিড পদ্ধতিতে কর্মরত অধিকাংশ কর্মীকে সপ্তাহে দুই থেকে তিন দিন অফিসে উপস্থিত থাকতে হবে।
এদিকে পুনর্গঠনের কারণে যেসব কর্মীকে প্রতিষ্ঠান ছাড়তে হবে, তাদের নতুন উদ্যোগ বা ব্যবসা শুরুতে সহায়তার জন্য ১০ হাজার ডলার করে অনুদান দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে ক্যানভা।
বিশ্বজুড়ে প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিস্তার এবং ব্যবসায়িক কৌশলের পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্মী ও সাংগঠনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস করছে। এর আগে গত মার্চে সফটওয়্যার প্রতিষ্ঠান অ্যাটলাসিয়ান এআই খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে ১ হাজার ৬০০ কর্মী ছাঁটাই করে। একইভাবে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ার প্রযুক্তিপ্রতিষ্ঠান ওয়াইজটেক গ্লোবাল দুই বছর মেয়াদি পুনর্গঠন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিশ্বজুড়ে প্রায় এক-তৃতীয়াংশ কর্মী কমানোর ঘোষণা দেয়।
প্রযুক্তি খাতে এ ধরনের ধারাবাহিক পরিবর্তন ইঙ্গিত দিচ্ছে, এআইনির্ভর ব্যবসায়িক কৌশল ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রচলিত কর্মপরিকল্পনা নতুন করে সাজাচ্ছে।


