স্ট্রোক প্রতিরোধে যে ধরনের শরীরচর্চা বেশি কার্যকর হতে পারে
স্ট্রোক এখন আর শুধু বয়স্কদের রোগ নয়। কম বয়সীদের মধ্যেও বাড়ছে এ রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা। মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা রক্তনালি ফেটে রক্তক্ষরণের কারণে স্ট্রোক হতে পারে। এতে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি মৃত্যুবরণ করেন, আবার কেউ কেউ দীর্ঘমেয়াদি পক্ষাঘাত ও শারীরিক অক্ষমতার শিকার হন।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও অতিরিক্ত কোলেস্টেরল স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। তবে জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন এবং নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে এই ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
কিন্তু স্ট্রোক প্রতিরোধে কোন ধরনের ব্যায়াম বেশি কার্যকর? শুধু হাঁটলেই কি যথেষ্ট, নাকি প্রয়োজন শক্তিবর্ধক ব্যায়াম ও যোগাসনেরও? বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, তিন ধরনের শরীরচর্চার সমন্বয় শরীর সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
দ্রুত হাঁটা
স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সবচেয়ে সহজ ও কার্যকর শারীরিক কার্যক্রমগুলোর একটি হলো দ্রুত হাঁটা। এ জন্য জিমে যাওয়া কিংবা বিশেষ কোনো সরঞ্জামের প্রয়োজন নেই।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, সপ্তাহে অন্তত পাঁচ দিন ৩০ মিনিট করে দ্রুত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে। নিয়মিত হাঁটলে রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে। পাশাপাশি হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্ষমতাও ভালো থাকে।
যারা দীর্ঘদিন শরীরচর্চা করেননি, তাদের শুরুতেই ৩০ মিনিট হাঁটার প্রয়োজন নেই। প্রথমে অল্প সময় হাঁটতে হবে। পরে ধীরে ধীরে সময় ও গতি বাড়ানো যেতে পারে।
শক্তিবর্ধক ব্যায়াম
শুধু হাঁটার মাধ্যমে শরীরের সব পেশির যথাযথ পরিচর্যা সম্ভব নয়। তাই নিয়মিত হাঁটার পাশাপাশি সপ্তাহে অন্তত দুই দিন শক্তিবর্ধক ব্যায়াম করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এ ধরনের ব্যায়ামের জন্য ভারী ওজন তোলার প্রয়োজন নেই। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী হালকা ডাম্বেল, রেজিস্ট্যান্স ব্যান্ড কিংবা শরীরের নিজস্ব ওজন ব্যবহার করেই ব্যায়াম করা যায়।
বিশেষ করে নারীদের রজোনিবৃত্তির পর পেশি ও হাড়ের ক্ষয় বাড়তে পারে। এ সময় শক্তিবর্ধক ব্যায়াম পেশি ও হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়ক। একই সঙ্গে শরীরের ওজন এবং রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও এটি ভূমিকা রাখে। এসব বিষয় স্ট্রোকের ঝুঁকির সঙ্গেও সম্পর্কিত।
যোগাসন
শরীরের নমনীয়তা, ভারসাম্য ও মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখতে যোগাসন বেশ উপকারী। নিয়মিত যোগব্যায়াম ও শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, যোগাসনের মাধ্যমে রক্তচাপও কিছুটা কমতে পারে।
তবে স্ট্রোক প্রতিরোধে হাঁটার বিকল্প হিসেবে যোগাসনকে বিবেচনা করা ঠিক নয়। বরং হাঁটা ও শক্তিবর্ধক ব্যায়ামের পাশাপাশি যোগাসন করলে শরীরচর্চার রুটিন আরও ভারসাম্যপূর্ণ হয়।
সকালে ঘুম থেকে উঠে অথবা রাতে ঘুমানোর আগে কিছুক্ষণ যোগাসন ও শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন করা যেতে পারে।
স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে কেমন হবে ব্যায়ামের রুটিন?
হাঁটা, শক্তিবর্ধক ব্যায়াম ও যোগাসন—প্রতিটিরই আলাদা উপকারিতা রয়েছে। তাই একটি ব্যায়ামের ওপর নির্ভর না করে সামর্থ্য অনুযায়ী তিনটির সমন্বয়ে নিয়মিত শরীরচর্চা করা ভালো।
সপ্তাহে পাঁচ দিন অন্তত ৩০ মিনিট দ্রুত হাঁটা, দুই দিন শক্তিবর্ধক ব্যায়াম এবং প্রতিদিন কিছু সময় যোগাসন বা শ্বাস-প্রশ্বাসের অনুশীলন শরীর সুস্থ রাখতে সহায়ক হতে পারে।
শুধু ব্যায়ামই যথেষ্ট নয়
স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি জীবনযাত্রায়ও পরিবর্তন আনা জরুরি। রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা, অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ কমানো, ধূমপান পরিহার এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
পাশাপাশি নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোও গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস বা হৃদ্রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যায়ামের রুটিন নির্ধারণ করা উচিত।
সুস্থ থাকতে এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে তাই আজ থেকেই নিয়মিত শরীরচর্চা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।


