কুড়িগ্রামের সাবেক ডিসি সুলতানা পারভীন বরখাস্ত

জাতীয়
কুড়িগ্রামের সাবেক ডিসি সুলতানা পারভীন বরখাস্ত
নিউজ ডেস্ক
১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

এক সাংবাদিককে মধ্যরাতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনায় আলোচিত কুড়িগ্রামের সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি) মোছা. সুলতানা পারভীনকে অবশেষে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে বলা হয়, আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি চাকরি আইন ২০১৮-এর ৩৯(২) ধারা অনুযায়ী তাকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা পাবেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর কুড়িগ্রামের সিনিয়র দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে ফৌজদারি মামলায় (নম্বর: ১৩৪৫/২০২৫; জি.আর. ৮৩/২০২০) জামিনের আবেদন করেন সুলতানা পারভীন। কিন্তু শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর আদেশ দেন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

এরপরই তাকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

ঘটনার সূত্রপাত ২০১৯ সালের ১৩ মার্চ রাতে। কুড়িগ্রামের বাংলা ট্রিবিউনের স্থানীয় প্রতিনিধি আরিফুল ইসলামকে মধ্যরাতে বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে গিয়ে জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ঘরে কোনো তল্লাশি চালানো ছাড়াই পরে দাবি করা হয়, তার বাসায় “আধা বোতল মদ ও দেড়শ গ্রাম গাঁজা” পাওয়া গেছে।

এই ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়। সাংবাদিক সমাজ থেকে শুরু করে মানবাধিকার সংস্থাগুলো পর্যন্ত এর নিন্দা জানায়।

আরিফুলের পরিবারের দাবি ছিল, কুড়িগ্রামের তৎকালীন ডিসি মোছা. সুলতানা পারভীনের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করায় তিনি প্রতিশোধমূলকভাবে এ ব্যবস্থা নেন।

ঘটনার পর বিভাগীয় তদন্তে সুলতানা পারভীনকে দায়ী করে তার দুই বছরের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করা হয়েছিল। পরবর্তীতে সেই শাস্তি বাতিল করে তাকে অভিযোগমুক্ত করা হয়। তবে সাংবাদিক আরিফুল ইসলাম আদালতে পৃথক মামলা দায়ের করলে নতুন করে আইনি প্রক্রিয়ায় ফিরিয়ে আনা হয় পুরো বিষয়টি।

অবশেষে জামিন না পেয়ে কারাগারে যাওয়া এবং বরখাস্ত—দুই মিলিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো তিনি চরম প্রশাসনিক ও আইনি চাপের মুখে পড়লেন।