বৈশ্বিক উষ্ণতার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশ

জাতীয়
বৈশ্বিক উষ্ণতার তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে বাংলাদেশ
নিউজ ডেস্ক
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বাংলাদেশ এখন আর শুধু জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার নয়— বরং এই সংকট দ্রুত দেশের স্বাস্থ্য, অর্থনীতি ও সামগ্রিক জীবনে ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। সম্প্রতি প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের এক গবেষণা বলছে, বৈশ্বিক উষ্ণতার গতি বিবেচনায় বাংলাদেশ এখন বিশ্বে দ্বিতীয় সর্বাধিক ঝুঁকিপূর্ণ দেশ।

রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে তাপের প্রভাব’ শীর্ষক প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে এ চিত্র উঠে আসে।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ১৯৮০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রকৃত তাপমাত্রা বেড়েছে ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে আরও ভয়াবহ তথ্য হলো, এ সময়ের মধ্যে ‘অনুভূত তাপমাত্রা’ বেড়েছে ৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর ফলে, শরীর ও মনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে লক্ষ লক্ষ মানুষের।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

বিশ্বব্যাংকের গবেষণা মতে, ২০২৪ সালেই তাপজনিত অসুস্থতার কারণে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ কর্মদিবস নষ্ট হয়েছে, যার আর্থিক ক্ষতি দাঁড়ায় ১.৭৮ বিলিয়ন ডলার, অর্থাৎ দেশের মোট জিডিপির প্রায় ০.৪ শতাংশ।

বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ থেকে ২০২৩ সাল ছিল পৃথিবীর সবচেয়ে উষ্ণ সময়কাল। ঢাকায় ১৯৮০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তাপমাত্রা বেড়েছে ১.৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস — যা জাতীয় গড় বৃদ্ধির চেয়েও বেশি। হিট ইনডেক্স ঢাকায় জাতীয় গড়ের তুলনায় প্রায় ৬৫ শতাংশ বেশি, যা রাজধানীর জনজীবনকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।

অনুষ্ঠানে বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র অপারেশনস অফিসার ইফফাত মাহমুদ বলেন,

“তাপমাত্রা বৃদ্ধির সরাসরি প্রভাব পড়ছে মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর। এর প্রভাব শুধু দৈহিক নয়, মানসিক স্বাস্থ্য এবং কাজের দক্ষতার ওপরও পড়ছে।”

বিশ্বব্যাংকের স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ওয়ামেক এ রাজা বলেন, তাপজনিত অসুস্থতা মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসেবায় সক্ষমতা বাড়ানো এবং নগর পরিকল্পনায় সবুজায়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদনে বেশ কিছু সুপারিশও উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে:

জাতীয় প্রস্তুতি জোরদার করা,স্বাস্থ্যসেবায় তাপজনিত রোগ মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধি,নগরায়নে সবুজ পরিসর বাড়ানো,আবহাওয়া ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত তথ্য ব্যবস্থাপনায় উন্নয়ন,সরকারি-বেসরকারি ও আন্তর্জাতিক অর্থায়নের সমন্বয়।বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটান বিষয়ক পরিচালক জ্যাঁ পেসমে বলেন,

“তীব্র গরম শুধু একটি আবহাওয়াগত বিষয় নয়, এটি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রতিকূল এক চ্যালেঞ্জ। তবে সিঙ্গাপুরসহ কিছু দেশের অভিজ্ঞতা আমাদের শেখায়, পরিকল্পিত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিলে এই সংকট মোকাবিলা সম্ভব।”