বেসরকারি স্কুল-কলেজে সভাপতি পদে সরকারি কর্মকর্তাদের বাধ্যবাধকতা: বৈষম্য নাকি প্রয়োজনীয় রীতি?
শিক্ষামন্ত্রণালয় নতুন প্রবিধান অনুযায়ী আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে সব বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিত পরিচালনা পর্ষদ কমিটি গঠন করতে হবে। বিশেষ করে সভাপতির পদে সরকারি চাকরিজীবী (নবম গ্রেড বা তার ওপরস্থ কর্মরত/অবসরপ্রাপ্ত) কর্মকর্তারা থাকা বাধ্যতামূলক হবে বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছে মন্ত্রণালয়।
নতুন নিয়মে সভাপতির জন্য স্নাতক ডিগ্রি বা সামঞ্জস্যপূর্ণ শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকতে হবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচালনা পর্ষদ আজ অবধি অ্যাডহক কমিটি ভিত্তিতে কাজ করছে, তবে ১ ডিসেম্বর থেকে সব অ্যাডহক কমিটি বাতিল হয়ে যাবে। ২০২৪ সালের “অনিয়মিত পরিচালনা পর্ষদের” মেয়াদও শেষে গেছে। এসব পরিবর্তন প্রতিষ্ঠানগুলোতে কমিটি গঠন এবং সভাপতি নির্বাচন প্রক্রিয়াকে পুনর্বিন্যস্ত করার অংশ।
সমর্থন পাওয়া যুক্তি:
প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও দায়িত্ববোধ বাড়াবে, কারণ সরকারি কর্মকর্তারা সাধারণভাবে নিয়মানুবর্তী ও কাঠামোগত বাধ্যবাধকতার আওতায় থাকে।
প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তে রাজনৈতিক বা পারিবারিক প্রভাব কমিয়ে এনে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নের সম্ভাবনা রয়েছে।
সমালোচনার দিক:
শিক্ষাবিজ্ঞানীদের দাবি: “শিক্ষাগত দক্ষতা” ও “নৈতিকতার ভিত্তিতে” নির্বাচন হওয়া উচিৎ, শুধুমাত্র সরকারি পদাভিজ্ঞতার কারণে নয়। একটি কলেজের সভাপতির কাজ কেবল পদ আছে বলেই হয় না; নেতৃত্ব, সমাজের বোঝাপড়া ও শিক্ষার্থীর উন্নয়নের জন্য মেধা ও শ্রদ্ধা अपेक्षित।
বৈষম্যের অভিযোগ: যারা গ্রামাঞ্চল বা নিম্নহলায় বাস করেন, সরকারি সহকারিতা ও যোগাযোগ কম রয়েছে—এই সিদ্ধান্ত তাদের জন্য সুযোগের কমিয়ে দেবে।
প্রয়োগগত সমস্যা: নিয়োগ করা কঠিন হলে কেউ সভাপতি হতে ইচ্ছুক না হওয়ার আশঙ্কা; স্থানীয় অভ্যন্তরীণ কমিটির কাজ শুরু করার সময় বিরোধ ও অনুমোদনজনিত ঝামেলা হতে পারে।
নিয়মিত কমিটি গঠন এবং সভাপতি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সরকারি কর্মকর্তা বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত শিক্ষাক্ষেত্রে “পেশাগত দায়িত্ববোধ, অভিজ্ঞতার বিকল্প” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে। তবে এটি যতটা নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ার, ততটাই শিক্ষার পরিবেশের বৈচিত্র্য ও স্থানীয় প্রয়োজনে নেতিবাচক প্রভাব তৈরি করতে পারে যদি “শিক্ষার প্রতি ভালোবাসা” ও “নৈতিক মানসিকতা” বিবেচনায় না নেয়া হয়।
গবেষক ও শিক্ষা বিশ্লেষকদের কাছে পরামর্শ হবে:
এই সিদ্ধান্ত প্রয়োগ করার আগে প্রয়েদনমতো বৈধ, শিক্ষাগত ও সামাজিক বিকল্পগুলি আলোচনা করা হোক।
কমিটির অন্য পদগুলোতে যথেষ্ট প্রতিনিধিত্ব ও ভোটাধিকার দেওয়া থাকুক—অভিভাবক, শিক্ষক, ও স্থানীয় জন প্রতিনিধি।
সভাপতির দায়িত্ব ও কর্তব্য স্পষ্ট ও অধিকারকেন্দ্রিক হোক, যাতে দায়িত্বের অপব্যবহার কম হয়।


