শেখ পরিবারের বিরুদ্ধে এক ডজনের বেশি দুর্নীতির মামলা দুদকের
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে একাধিক মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ইতোমধ্যে পূর্বাচল প্লট বরাদ্দসহ একাধিক মামলার চার্জশিট আদালতে গৃহীত হয়েছে এবং সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে।
দুদক সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত শেখ হাসিনা, তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, ছোট বোন শেখ রেহানা এবং রেহানার সন্তানসহ পরিবারের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে মোট ১২টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও কয়েকটি মামলার অনুমোদনের প্রস্তুতি চলছে বলে নিশ্চিত করেছে দুদকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
রাজউকের পূর্বাচল নিউ টাউন প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহার ও অনিয়মের মাধ্যমে প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে চলতি বছরের জানুয়ারিতে শেখ পরিবারের সাত সদস্যের বিরুদ্ধে ছয়টি মামলা করে দুদক। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ১০ মার্চ চার্জশিট অনুমোদন দেওয়া হয়। এরপর আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয় শেখ হাসিনা, সজীব ওয়াজেদ জয়, সায়মা ওয়াজেদ, শেখ রেহানা, টিউলিপ সিদ্দিক, আজমিনা সিদ্দিক ও রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববির বিরুদ্ধে।
সজীব ওয়াজেদ জয় ১২ আগস্ট তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে এসব অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মিথ্যা’ বলে দাবি করেন।
সায়মা ওয়াজেদ পুতুলের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে চারটি মামলা দায়ের করেছে দুদক। এর মধ্যে বিএসএমএমইউ-তে শিক্ষকতার ভুয়া যোগ্যতা প্রদর্শনের মাধ্যমে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি পদে নির্বাচিত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এক্সিম ব্যাংক ও বিএবি’র মাধ্যমে সূচনা ফাউন্ডেশনের নামে করপোরেট ফান্ড আত্মসাতের অভিযোগে দায়ের করা এক মামলায় নজরুল ইসলাম মজুমদারকেও আসামি করা হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের সংসদ সদস্য টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে পূর্বাচল প্রকল্পে প্লট বরাদ্দ এবং গুলশানে একটি ফ্ল্যাট হস্তান্তরের বিনিময়ে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা করেছে দুদক। তবে টিউলিপ সিদ্দিকের আইনজীবী অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘রাজনৈতিক হয়রানি’ বলে দাবি করেছেন।
শেখ হাসিনার সাবেক সামরিক উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিক এবং তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে চারটি মামলা হয়েছে। বিমানবন্দরের বিভিন্ন প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগে আরও একটি মামলায় তারিকসহ ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।
দুদক জানিয়েছে, শেখ রেহানার স্বামী শফিক আহমেদ সিদ্দিকের নামে একটি মামলার অনুমোদন প্রক্রিয়াধীন। এছাড়া আওয়ামী লীগের গবেষণা প্রতিষ্ঠান সিআরআই ও বঙ্গবন্ধু ট্রাস্টের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়েও তদন্ত চলছে।
দুদক মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, “আমরা যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে তদন্ত করছি। অনেক তথ্য বিদেশে থাকায় আমরা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার (MLA) মাধ্যমে সেগুলো সংগ্রহের চেষ্টা করছি।”
এই মামলাগুলো রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সরকারপন্থি মহল অভিযোগ করছে, এসব মামলা দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রশাসনের কঠোর অবস্থানের ফল। অন্যদিকে, বিরোধী মহল ও ভিন্নমতাবলম্বীরা একে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অংশ বলে মনে করছে।
পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এসব মামলার ভবিষ্যৎ বিচারিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করবে।


