গাজামুখী নৌবহরে শহীদুল আলমের অংশগ্রহণ ‘বিবেকের গর্জন’: তারেক রহমান
গাজা অভিমুখে যাত্রা করা ‘সুমুদ ফ্লোটিলা’ নৌবহরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বকারী আলোকচিত্রী ও দৃকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শহীদুল আলমের পদক্ষেপকে ‘‘বিবেকের গর্জন’’ বলে আখ্যায়িত করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শুক্রবার দিবাগত রাত ১টা ৫২ মিনিটে তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এ মন্তব্য করেন। সেখানে তিনি শহীদুল আলমের উদ্যোগকে ‘‘সংহতির প্রতীক এবং বৈশ্বিক অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিবেকের উচ্চারণ’’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান বলেন,
“বাংলাদেশের পতাকা বহন করে শহীদুল আলম গোটা বিশ্বকে স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন—আমাদের জাতি কখনও নিপীড়ন ও অবিচারের কাছে মাথানত করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না।”
তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘বিএনপি সর্বদা শহীদুল আলম এবং ফিলিস্তিনের নিপীড়িত জনগণের পাশে থাকবে।’’
সুমুদ ফ্লোটিলা একটি আন্তর্জাতিক নাগরিক উদ্যোগ, যা গাজার ওপর চলমান অবরোধের প্রতিবাদ এবং মানবিক সহায়তার বার্তা নিয়ে প্রতি বছর ভূমধ্যসাগরে যাত্রা করে। এ বছর এর অংশ হিসেবে শহীদুল আলম বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন।
নানা দেশ থেকে মানবাধিকারকর্মী, চিকিৎসক, সাংবাদিক, আইনজীবী ও সমাজকর্মীরা এই ফ্লোটিলায় অংশ নিয়ে গাজাবাসীর প্রতি সংহতি প্রকাশ করছেন। ইসরায়েলের নৌ অবরোধের মুখে এই যাত্রা বরাবরই প্রতীকী হলেও তা বৈশ্বিক জনমত গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, তারেক রহমানের এই বার্তা কেবল ফিলিস্তিন ইস্যুতেই নয়, বরং বাংলাদেশের ভেতরেও একটি রাজনৈতিক ও নৈতিক অবস্থানকে স্পষ্ট করে তুলেছে।
এই বিবৃতির মধ্য দিয়ে বিএনপি আন্তর্জাতিক মানবাধিকারের পক্ষে অবস্থান ও সরকারের তুলনায় নিজেদের নৈতিক উচ্চতা তুলে ধরার কৌশল নিয়েছে বলেও মনে করছেন অনেকে।
শহীদুল আলমের এই পদক্ষেপ ইতোমধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। অনেকে তাকে ‘‘বাংলাদেশের গর্ব’’ হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা ও সংগঠন থেকেও তার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানানো হয়েছে।


