জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় অনন্য ইসলামি চিন্তাবিদ ড. ইয়াহইয়া রহমান

শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি বৃক্ষ রোপণ, সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধ প্রবণতা রোধে সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, মসজিদ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা এবং অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বৃত্তি প্রদান করতেন।

মুক্ত কলম
জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় অনন্য ইসলামি চিন্তাবিদ ড. ইয়াহইয়া রহমান
৪ নভেম্বর ২০২৬

প্রফেসর ড. এ. এইচ. এম. ইয়াহইয়া রহমান ১৯৪৯ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে তার নানা বাড়ি খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার দক্ষিণ বেদকাশী ইউনিয়নের সর্বদক্ষিণের সুন্দরবন সংলগ্ন গোলখালী গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তবে বেড়ে ওঠেন এবং বসতি স্থাপন করেন সাতক্ষীরা জেলার শ্যামনগর উপজেলার কাশিমাড়ী গ্রামে। তার পিতার নাম হাফেজ সুলতান উদ্দিন সরদার, আর মায়ের নাম আমিনা সুলতানা। পরিবারে ৭ সন্তানের মধ্যে (পাচ ভাই, দুই বোন) তিনি সর্ব জ্যেষ্ঠ পুত্র ছিলেন। শৈশবে উনার পড়ালেখার হাতেখড়ি হয় নিজ গ্রামে। পরবর্তীতে শিক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি দূরবর্তী গ্রামগুলোতে বসবাস করতে থাকেন। শৈশব থেকেই তিনি অত্যন্ত ভদ্র, মার্জিত, শান্ত স্বভাব, পরোপকারী ও আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের অধিকারী ছিলেন।

১৯৬১ সালে তিনি সাতক্ষীরা জেলার বন্দরকাঠি আলিয়া মাদ্রাসা থেকে দাখিল ও পরবর্তীতে ১৯৬৫ ও ১৯৬৭ সালে আগরদাঁড়ী আমিনিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে যথাক্রমে আলিম ও ফাযিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। আলিম পরীক্ষায় তিনি মাদ্রাসা বোর্ডে ১২তম স্থান অধিকার করেন ও বোর্ড কর্তৃক বৃত্তিপ্রাপ্ত হন। ১৯৬৯ সালে তিনি স্বনামধন্য ছারছীনা দারুসসুন্নাত কামিল মাদ্রাসা থেকে কামিল পরীক্ষায় (হাদিস বিভাগ থেকে) প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন এবং ষষ্ঠ স্থান অধিকার করেন। ১৯৭২ সালে একই মাদ্রাসা থেকে আবার কামিল পরীক্ষায় (ফিকহ বিভাগ থেকে) প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন এবং চতুর্থ স্থান অধিকার করেন। পরবর্তীতে তিনি আবারো কৃতিত্বের সঙ্গে সরকারি আলিয়া মাদ্রাসা ঢাকা থেকে কামিল পরীক্ষায় (তাফসির বিভাগ থেকে) প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন এবং ‘কামিল টৃপল’ সম্পন্ন করেন।

সব ধরনের পড়ালেখার প্রতি আকর্ষণ থাকায় মাদ্রাসা শিক্ষার পাশাপাশি ১৯৭১ সালে তিনি সরকারি নাজিমউদ্দিন কলেজ, মাদারীপুর থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় প্রথম শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হন। তৎকালীন সময়ে পাবলিক পরীক্ষায় প্রচুর নকলের প্রচলন থাকলেও পুরো পরীক্ষা কেন্দ্রে ড. ইয়াহইয়ার রহমান ছিলেন একমাত্র ব্যতিক্রম। নিজের আগ্রহ ও যোগ্যতায় তিনি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন, মেধার স্বাক্ষর রাখেন এবং কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন, যা শিক্ষকমণ্ডলী ও অবশিষ্ট পরীক্ষার্থীদের দৃষ্টি আকৃষ্ট করে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ছারছীনা মাদ্রাসায় শিক্ষক থাকা অবস্থায় শিক্ষকতার চাকরি ছেড়ে ঢাকায় গমন করেন ও আবার পড়াশোনা শুরু করেন। তিনি ১৯৭৪ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আরবি বিভাগে অনার্সে প্রথম শ্রেণিতে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করেন ও বৃত্তিপ্রাপ্ত হন। একই বিভাগ থেকে ১৯৭৫ সালে তিনি মাস্টার্সে (থিসিস গ্রুপে) প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন এবং কলা অনুষদে প্রথম (ফ্যাকাল্টি ফার্স্ট) হন। পরবর্তী বছর ১৯৭৬ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ থেকে দ্বিতীয় মাস্টার্স সম্পন্ন করেন এবং প্রথম শ্রেণিতে পঞ্চম স্থান অধিকার করেন ও বৃত্তিপ্রাপ্ত হন।

১৯৮২ সালে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের অধীনে প্রফেসর ড. মোহাম্মাদ এছহাকের তত্ত্বাবধানে এমফিল ডিগৃ সমাপ্ত করেন। এরপর সউদি আরব সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ‘এরাবিক এক্সপার্ট’ হিসেবে রিয়াদ গমন করেন। সেখানে পূর্ণকালীন চাকরির পাশাপাশি তিনি পড়ালেখা ও গবেষণা কর্মে মনোনিবেশ করেন। যার ফলে ১৯৮৪ সালে রিয়াদের কিং সউদ ইউনিভার্সিটি থেকে ডিপ্লোমা ইন এরাবিকে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অধিকার করেন। পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ার প্রাক্তন ভাইস চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মুহাম্মাদ মুস্তাফিজুর রহমান স্যারের তত্ত্বাবধায়নে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি ডিগৃ সম্পন্ন করেন।

ড. ইয়াহইয়া রহমানের কর্মজীবন শুরু হয় ছাত্র থাকাকালীন সময়েই। ১৯৬৯ সালে কামিল পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের আগেই তিনি মাদারীপুর আহমাদিয়া আলিয়া কামিল মাদ্রাসায় তৃতীয় মুহাদ্দিস হিসেবে যোগদান করেন। এক বছর সেখানে শিক্ষকতার পর ছারছীনা মাদ্রাসায় ফিরে তিনি সিনিয়র মুহাদ্দিস হিসেবে ১৯৭০ থেকে ১৯৭২ পর্যন্ত পাঠদান করেন। পরবর্তীতে ঢাকায় ফিরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা সমাপ্ত করে ১৯৭৮ সালে সরকারি কারমাইকেল কলেজ, রংপুরে লেকচারার হিসেবে যোগদান করেন। এরপর ১৯৭৯ সালে সরকারি কবি নজরুল কলেজ, ঢাকাতে লেকচারার হিসেবে যোগদান করেন এবং দুই বছর শিক্ষকতা করেন।

১৯৮১ সালে বাংলাদেশের সরকারি চাকরি (বিসিএস শিক্ষা ক্যাডার) থেকে ইস্তফা দিয়ে সউদি আরব সরকারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘এরাবিক এক্সপার্ট’ হিসাবে রিয়াদ গমন করেন এবং সেখানে আট বছর অবস্থান করেন। সউদি আরবে থাকাকালীন  বাংলাদেশি কমিউনিটির মাঝে নিয়মিত তাফসির পরিচালনা করতেন এবং সউদি সরকার ও জনগণের নিকট বাংলাদেশি কমিউনিটিকে একটি মর্যাদাবান, কর্মঠ ও আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসেবে পরিচিত ও গ্রহণযোগ্য করার ক্ষেত্রে সক্রিয় অবদান রাখেন।

বিদেশে লোভনীয় চাকরি ছেড়ে দেশের টানে ১৯৮৯ সালে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। ১৯৯১ সালে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, কুষ্টিয়ায় আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগে যোগদান করেন। তিনি একই সঙ্গে আল কুরআন এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ এবং দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি থিওলজি এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের ডিন হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৯১ সালে দেশের খুবই ক্রান্তিলগ্নে তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির (ভারপ্রাপ্ত) সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি শহিদ জিয়াউর রহমান হলের প্রভোস্ট ছিলেন। একই সময় তিনি অনুষদের ডিন, বিভাগীয় চেয়ারম্যান ও হলের প্রভোস্টের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পেশাজীবী সংগঠন ‘গৃন ফোরাম’ এর একাধিকবার সভাপতি ছিলেন।

তিনি দীর্ঘকাল ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। ২০০১ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত তিনি সিন্ডিকেট সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়াও তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। তিনি কয়েক বছর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইন্সটিটিউট অফ ইসলামিক এডুকেশন এন্ড রিসার্চ (IIER)-এর পরিচালক ছিলেন। জাতীয় পর্যায়ে শিক্ষা ক্ষেত্রে অনবদ্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ ২০০৫ সালে তিনি ‘শ্রেষ্ঠ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক’ হিসেবে বিবেচিত হন ও সরকার কর্তৃক বিশেষ পুরস্কার প্রাপ্ত হন।

তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় স্টাডিজ জার্নালের চারটি ভলিউমের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়াও ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তন উপলক্ষে সমাবর্তন স্মারক (Brochure)-এর সম্পাদক হিসেবে ১৯৯২ এবং ২০০৪ সালে দায়িত্ব পালন করেন।

ড. ইয়াহইয়া রহমানের বেশ কয়েকটি গবেষণাপত্র আন্তর্জাতিক ও জাতীয় জার্নালে প্রকাশিত হয়। ইনডিয়ার প্রসিদ্ধ জার্নাল আল বা’ছ আল ইসলামিতে ‘বাংলাদেশে ইসলাম কখন এসেছে’ শিরোনামে একটি গবেষণা কর্ম দুই পর্বে প্রকাশিত হয়।

তার উল্লেখযোগ্য আরো কয়েকটি গবেষণাপত্রের নাম :

‘বাংলাদেশে ইসলামি শিক্ষা : সমস্যা ও তার সমাধান’; ‘মুসলিম বিশ্ব : অধপতনের কারণ ও তার প্রতিকার’; ‘অমুসলিমদের কোরআন চর্চা’; ‘আল্লামা নিয়ায মাখদুম : বাংলাদেশে হাদিস শিক্ষাদানে তার অবদান’; ‘বিশ্ব সভ্যতায় বিস্ময়কর দুজন মুসলিম মনীষীর অবদান : প্রেক্ষিত আন্তর্জাতিক ইসলামী সম্মেলন ১৯৯৮’; ‘সামাজিক অবক্ষয় ও মাদকারোধে ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গি’; ‘মহানবী (স:)-এর আদর্শই সব সমস্যাবলির

একমাত্র সমাধান’; ‘সুরা ফাতিহার তাফসীর : তুলনামূলক আলোচনা’; ‘জুম’আর খুতবা’; Al-QurÕan: An Unparalleled Constitution; Satire in Arabic Poetry and its Influence in the Society; Women in Different Religions and Nations; Women in Arabic Poetry; Ibn Al-Rumi and His Contribution to Arabic Poetr

ড. ইয়াহইয়া রহমান বিভিন্ন পর্যায়ে ইসলামি শিক্ষার প্রসারে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন। তিনি রিয়াদে ১৯৮৭ সালে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন। ১৯৯৭ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত জাতীয় শিক্ষা সেমিনারে ‘ইসলামি শিক্ষা’ পর্বের সেশনে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।

তিনি ১৯৯৮ সালে উজবেকিস্তানের রাজধানী তাশখন্দে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কনফারেন্সে বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে যোগদান করেন এবং ইমাম বুখারি (রহ:) এর কবর জিয়ারতের সুযোগ পান। ২০০২ সালে ঢাকায় অনুষ্ঠিত Quality Assurance in Higher Education in Bangladesh শীর্ষক আন্তর্জাতিক সেমিনারে অংশগ্রহণ করেন। এ ছাড়াও তিনি জাতীয় পর্যায়ে অসংখ্য সেমিনার, সিম্পোজিয়াম ও ওয়েবিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এবং অতিথি হিসেবে নিয়মিত আলোচনা রাখতেন।

তিনি বেশ কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করেন। উল্লেখযোগ্য রচনাবলি হচ্ছে : মাওয়ালী এবং ইসলামি উলুমে তাহাদের অবদান (The Mawali and their Contribution in the Islamic Science), ইমাম আবু হানিফা (রহ.) এর জীবনী ইত্যাদি।

ড. ইয়াহইয়া রহমানের অধীনে ১২ জন গবেষক এমফিল ও ১০ জন পিএইচডি ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। ওনার অধীনে গবেষণা সম্পন্ন করা ছাত্ররা দেশে ও বিদেশের বিভিন্ন বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানে যোগ্যতা ও খ্যাতির সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন। এ ছাড়াও তিনি ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের external examiner/supervisor Ges expert হিসেবে দায়িত্ব পালন করে গেছেন।

শিক্ষকতার পাশাপাশি তিনি বৃক্ষ রোপণ, সামাজিক অবক্ষয় ও অপরাধ প্রবণতা রোধে সচেতনতামূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, মসজিদ ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা এবং অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের নিয়মিত বৃত্তি প্রদান করে থাকতেন। এ ছাড়াও তিনি বেশ কয়েকবার ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ কর্তৃক জাতীয় পর্যায়ে বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ খতিব (ইমাম) হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন ও বিশেষ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন। তিনি দীর্ঘকাল রাজারবাগ পুলিশ লাইন হেড কোয়ার্টার সেন্ট্রাল মসজিদ, টিকাটুলি মসজিদ, ও কোর্টপাড়া জামে মসজিদ, কুষ্টিয়ায় জুমার সম্মানিত খতিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ড. ইয়াহইয়া রহমান ইসলামিক ফাউন্ডেশন বাংলাদেশের অধীনে পরিচালিত বিভিন্ন গবেষণা কর্মে জড়িত ছিলেন। তিনি ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমিতে দীর্ঘদিন বিশেষ প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ মসজিদ মিশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়াও তিনি আল মুনতাদা আল ইসলামি ও বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অফ ইসলামিক থট (BIIT)-এর কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। জাতীয় পর্যায়ে ইসলামি শিক্ষার সম্প্রসারণ ও সংকোচন নীতি প্রতিরোধে সর্ব মহলের ওলামায়ে কেরামের বৃহত্তর ঐক্য গঠনের লক্ষ্যে গঠিত কমিটিতে তিনি সদস্য ছিলেন ও সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

তিনি বাংলা একাডেমি; ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার্ড গ্রাজুয়েট; ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ এলামনাই এসোসিয়েশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়; ও আরবি বিভাগ এলামনাই এসোসিয়েশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সদস্য ছিলেন। মহান এ মনীষী ২০২৫ সালের ৪ নভেম্বর ৮৪ বছর বয়সে ইন্তেকাল করেন। ওনার মৃত্যুতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, পেশাজীবী ও সামাজিক সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করে।

 

লেখক : লেকচারার, ইউনিভার্সিটি অফ গ্রেটার ম্যানচেস্টার, ইংল্যান্ড (মরহুমের বড় ছেলে)