মিরপুর অগ্নিকাণ্ডে শ্রমিক মৃত্যু: বিচার ও ক্ষতিপূরণ দাবিতে এনসিপির প্রতিবাদ সভা আজ
রাজধানীর মিরপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে পোশাকশ্রমিকসহ ১৬ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় দায়ীদের বিচার এবং নিহতদের ক্ষতিপূরণের দাবিতে মাঠে নামছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটি আজ বুধবার বিকেল ৪টায় মিরপুর ১০ নম্বরের স্বাধীনতা চত্বরে একটি প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেছে।
ঢাকা মহানগর উত্তর শাখা আয়োজিত এই সভায় স্থানীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন বলে জানিয়েছে দলটির একটি সূত্র।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জানায়, মিরপুরের শিয়ালবাড়িতে ঘটে যাওয়া অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দায়িত্বশীলদের শাস্তি এবং ভবিষ্যতের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে তাদের তিনটি প্রধান দাবি রয়েছে:
-
অগ্নিকাণ্ডের জন্য দায়ী অবৈধ কেমিক্যাল গুদাম মালিক, গার্মেন্টস কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্টদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
-
প্রতিটি নিহত শ্রমিকের পরিবারকে এক কোটি টাকা করে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।
-
আবাসিক এলাকায় অবৈধ কেমিক্যাল গোডাউন সরিয়ে নিতে হবে, বিশেষ করে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় থাকা এলাকায়।
মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) দুপুরে মিরপুরের শিয়ালবাড়িতে অবস্থিত একটি পোশাক কারখানা ও ‘কসমিক ফার্মা’ নামের কেমিক্যাল গুদামে আগুন লাগে। বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে ফায়ার সার্ভিস খবর পায় এবং ১১টা ৫৬ মিনিটে প্রথম ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। শুরুতে পাঁচটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে, পরে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১২টিতে।
দুই ঘণ্টারও বেশি সময় চেষ্টার পর আগুন নিয়ন্ত্রণে এলেও উদ্ধার করা হয় পোশাক কারখানার দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলা থেকে ১৬ জনের মরদেহ। প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ভবনের নিচতলায় আগুনের তীব্রতা এবং ছাদের দরজা তালাবদ্ধ থাকার কারণে কেউ বের হতে পারেনি। এই ‘গাফিলতিকে’ হত্যার শামিল বলছে স্থানীয়রা।
এনসিপি নেতারা বলছেন, এই ঘটনা নিছক দুর্ঘটনা নয়, এটি একটি নৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা। তাঁরা মনে করেন, মালিক ও কর্তৃপক্ষের অবহেলাজনিত এই মৃত্যুর দায় তাদের এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
এনসিপির ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি বলেন,
“শ্রমিকরা উন্নয়নের কারিগর। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে কোনো শিল্পায়ন সফল হতে পারে না। যারা অবৈধভাবে কেমিক্যাল মজুত করে মানুষ হত্যা করছে, তাদের ছাড় দেওয়া যাবে না।”
বিশ্লেষকরা বলছেন, রাজধানীর আবাসিক এলাকায় বিপজ্জনক কেমিক্যাল গুদাম থাকা সত্ত্বেও কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা চরম বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এমন দুর্ঘটনা যেন আর না ঘটে, সে জন্য কেবল বিচার নয়, শহর পরিকল্পনায় দীর্ঘমেয়াদি নজরদারি ও সংস্কার দরকার।
ফায়ার সার্ভিস, ডিএনসি, ডিএনসিসি ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং কার কী দায়িত্ব ছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়রা দ্রুত বিচার দাবি করছেন।


