ফল প্রকাশের দিন এসে কাঁদলেন জুনায়েদের বাবা, জিপিএ-৫ পেলেও ছেলেটি আর ফিরে আসবে না
এইচএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশের দিন সকাল থেকেই দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে উৎসবের আমেজ। কোথাও হাসি, কোথাও অভিমান। কিন্তু নটরডেম কলেজে এক প্রাপ্তির দিনে নেমে আসে শোকের ছায়া। ফলাফল দেখতে এসে কান্নায় ভেঙে পড়েন ব্যাংকার মোরশেদুল আমিন—কারণ তার ছেলে জুনায়েদ আমিন নেই, যিনি পেয়েছেন জিপিএ-৫।
মাত্র ২০ দিন আগে, ২৭ সেপ্টেম্বর মামাবাড়ি বেড়াতে গিয়ে নদীতে ডুবে মারা যায় নটরডেম কলেজের এই মেধাবী শিক্ষার্থী। বৃহস্পতিবার ফলাফল ঘোষণার দিনে কলেজে উপস্থিত হয়ে ছেলের নামের পাশে জিপিএ-৫ দেখে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননি পিতা।
“সে খুব ভালো ছাত্র ছিল। পড়ালেখা শেষ করে বিদেশে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন ছিল। আজ তার সেই সাফল্যের দিন, কিন্তু সে নেই,” — বলেন কান্নাজড়িত কণ্ঠে জুনায়েদের বাবা।
নিরাপত্তার ঘাটতি ও দুর্ঘটনার পরিণতি সম্পর্কে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে আবারও, বিশেষ করে মেধাবী শিক্ষার্থীদের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু নিয়ে।
নটরডেম কলেজের অধ্যক্ষ ড. ফাদার হেমন্ত পিউস রোজারিও বলেন,
“জুনায়েদ আমাদের অত্যন্ত পরিচিত ও প্রিয় ছাত্র ছিল। সে শুধু ভালো ছাত্রই নয়, ক্লাব ও সমাজসেবামূলক কার্যক্রমেও ছিল অগ্রণী। আমরা তার পরিবারের পাশে আছি।”
২০২৫ সালের এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ১২ লাখ ৩৫ হাজার ৬৬১ জন শিক্ষার্থী, পাস করেছেন ৭ লাখ ২৬ হাজার ৯৬০ জন। গড় পাসের হার ৫৮.৮৩ শতাংশ, আর ফেল করেছেন ৫ লাখ ৮ হাজার ৭০১ জন শিক্ষার্থী।
এবার ৬৯ হাজার ৯৭ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। এর মধ্যে একজন ছিলেন জুনায়েদ আমিন, যিনি এই ফলাফল দেখার আগেই চিরবিদায় নিয়েছেন।
এ বছরও ছাত্রীদের পাসের হার (৬২.৯৭%) ও জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে (৩৭,০৪৪ জন) ছাত্রদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছে। ছাত্রদের গড় পাসের হার ৫৪.৬০%, আর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ৩২,০৫৩ জন।
আলিম পরীক্ষায় গড় পাসের হার: ৭৫.৬১%, জিপিএ-৫: ৪,২৬৮ জন
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে গড় পাসের হার: ৬২.৬৭%, জিপিএ-৫: ১,৬১০ জন


