ডিম-মুরগির উৎপাদন স্থগিতের হুঁশিয়ারি প্রান্তিক খামারিদের

ডিম-মুরগির উৎপাদন স্থগিতের হুঁশিয়ারি প্রান্তিক খামারিদের
নিউজ ডেস্ক
১৮ অক্টোবর ২০২৫

পোলট্রি শিল্পে করপোরেট নিয়ন্ত্রণ ও লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধির প্রতিবাদে আগামী ১ নভেম্বর থেকে ডিম-মুরগি উৎপাদন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে প্রান্তিক খামারিদের সংগঠন বাংলাদেশ পোলট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএ)।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামের মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি জানায়, সরকারের নিরব ভূমিকা, করপোরেট সিন্ডিকেটের একচেটিয়া বাজার দখল ও খামারিদের উপেক্ষা করার প্রতিবাদে তারা এই কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হচ্ছে।

সংগঠনের সভাপতি সুমন হাওলাদার বলেন,

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

“আমরা বারবার ধৈর্য ধরেছি, দাবি জানিয়েছি। কিন্তু সরকার বাস্তব পদক্ষেপ না নেওয়ায় খামারিরা আজ পথে বসতে বাধ্য হচ্ছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দাবি না মানলে ১ নভেম্বর থেকে খামার বন্ধের কর্মসূচি শুরু হবে।”

তিনি অভিযোগ করেন, দেশের পোলট্রি শিল্প আজ ১০-১২টি করপোরেট গ্রুপের দখলে, যারা বাজারে ফিড, বাচ্চা, ওষুধ থেকে শুরু করে দাম নির্ধারণেও কর্তৃত্ব দেখাচ্ছে। অথচ এসব কোম্পানির সংগঠন বিপিআইসিসি অবৈধ ও নিবন্ধনহীন।

বিপিএ বলছে,

প্রতিটি ডিমে খামারিরা ২-৪ টাকা ক্ষতির মুখে পড়ছেন

ব্রয়লার মুরগিতে ক্ষতি ৩০-৪০ টাকা প্রতি কেজি

ফিডের দাম বেড়েছে বস্তাপ্রতি ১,০০০-১,২০০ টাকা

একেকটি মুরগির বাচ্চা বিক্রি হচ্ছে ৫০-১০০ টাকায়, যা উৎপাদন খরচের দ্বিগুণ

সুমন হাওলাদার বলেন,

“ভারতের বাজারে ফিডের দাম যেখানে ৩২-৪০ টাকা কেজি, সেখানে বাংলাদেশে তা ৫০-৬৫ টাকা। এটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার চাইলে চাল, ডাল, পেঁয়াজ আমদানি করে; তাহলে ফিড, ওষুধ ও বাচ্চা কেন নয়?”

বিপিএ তাদের দাবিসমূহের ভিত্তিতে সাত দফা তুলে ধরেছে:

  1. করপোরেট সিন্ডিকেট ভেঙে বাজারে সরকারের হস্তক্ষেপ

  2. প্রান্তিক খামারিদের নীতিনির্ধারণে অন্তর্ভুক্তি

  3. উৎপাদন খরচ ও ন্যায্য মুনাফা যোগ করে পণ্যের দাম নির্ধারণ

  4. ফিড-বাচ্চা-ওষুধের বাজারে স্বচ্ছ নিয়ন্ত্রণ

  5. ক্ষতিগ্রস্তদের প্রণোদনা ও জামানতবিহীন ঋণ

  6. দুর্নীতিপরায়ণ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা

  7. অবৈধ সংগঠন বিপিআইসিসি নিষিদ্ধ করা

সংবাদ সম্মেলনে বিপিএ নেতারা বলেন,

“এই অবস্থা চলতে থাকলে কয়েক বছরের মধ্যে দেশের নিজস্ব খামারিরা থাকবে না। শুধু থাকবে করপোরেট নিয়ন্ত্রিত বাজার, যেখানে ভোক্তারা সর্বোচ্চ দামে ন্যূনতম মানের পণ্য কিনতে বাধ্য হবেন।”

সংগঠনটি জানিয়েছে, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে খামারিরা পর্যায়ক্রমে খামার বন্ধ ও উৎপাদন স্থগিত করবেন, যা দেশের প্রোটিন বাজারে চরম সংকট সৃষ্টি করতে পারে।