বিমানবন্দর কার্গো ভিলেজে আগুনে পোশাক রপ্তানিতে বড় ধাক্কা: বিজিএমইএ’র শঙ্কা
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় দেশের পোশাক রপ্তানি খাতে বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ)। সংগঠনটি বলছে, এ ঘটনায় বিদেশি ক্রেতাদের আস্থা ক্ষুণ্ন হতে পারে, যা দেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
রোববার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে বিজিএমইএর সিনিয়র সহ-সভাপতি ইনামুল হক খানের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় তারা বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সঙ্গেও বৈঠক করেন।
বৈঠকে পোশাক রপ্তানিকারকদের সমস্যা লাঘবে আমদানি করা কাঁচামাল ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে খালাসের নির্দেশ দেন বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। আপাতত এসব মালামাল কার্গো ভিলেজের ৩ নম্বর ভবনে রাখা হবে। বিজিএমইএ তাদের সদস্যদের দ্রুত পণ্য খালাসে পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দিয়েছে।
পরিদর্শন শেষে বিজিএমইএ প্রতিনিধি দল কার্গো ভিলেজের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন। তারা বলেন, অগ্নিকাণ্ডে বিপুল পরিমাণ প্রস্তুতকৃত রপ্তানি পণ্য ও আমদানি করা কাঁচামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার আর্থিক মূল্য এখনও নিরূপণ করা যায়নি। পরিস্থিতি মোকাবেলায় বিজিএমইএ চারটি দাবির কথা জানায়:
-
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃতি নির্ধারণে দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্ত।
-
ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ ও পুনঃসহায়তা।
-
রপ্তানি কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে সব আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সহজীকরণ।
-
পণ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্পর্শকাতর এলাকায় পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
বিজিএমইএ নেতারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক ক্রেতারা এরই মধ্যে কার্গো ভিলেজে আগুন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সময়মতো পণ্য পাঠাতে না পারলে তা দেশের ভাবমূর্তি ও ভবিষ্যৎ অর্ডারে প্রভাব ফেলতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।
বিজিএমইএর প্রতিনিধি দলে ছিলেন সহ-সভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, পরিচালক ফয়সাল সামাদ, আরিফুর রহমান, কাজী মিজানুর রহমান, রুমানা রশীদ, মোহাম্মদ সোহেল, জনসংযোগ কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদ কবির, এয়ারপোর্ট সেলের চেয়ারম্যান মো. নিশের খানসহ অনেকে।


