এনসিপিকে কতগুলো আসন ছাড়তে রাজি বিএনপি, যা জানা গেল
রাজনীতির উত্তাপ বেড়েই চলছে—বিশেষ করে বিএনপি ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) এর মধ্যে সম্পর্ককে কেন্দ্র করে। গত কয়েক মাস ধরে নানা ইস্যুতে দুই দলের মধ্যে টানাপোড়েন চোখে পড়ছে। একদিকে বিএনপির নেতারা এনসিপির অন্তর্বর্তী সরকারের ছাত্র উপদেষ্টাদের কার্যক্রম নিয়ে সমালোচনা করেন, অন্যদিকে এনসিপি নেতারা বিএনপির কিছু অবস্থানের বিরোধিতা করছেন। এমনকি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার অভিযোগও উঠেছে দুই দলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে।
তবে এই রাজনৈতিক তিক্ততার আড়ালে চলছে গোপন সমঝোতার পদক্ষেপ। দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কিছু এনসিপি নেতাই বিএনপির সঙ্গে নির্বাচনী জোট বা সমঝোতার সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদী। তবে দলভিত্তিক মতবিরোধও রয়েছে। কিছু নেতা মনে করেন, যদি বিএনপি এনসিপিকে অন্তত ৩০-৪০টি আসন ছাড় দেয়, তবে তারা জোটে যেতে রাজি। অন্যরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, আসন বন্টন সত্ত্বেও বিএনপির কোনো নেতাই স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করতে পারেন, যা জোটকে দুর্বল করতে পারে।
এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘আপাতত বিএনপির সঙ্গে জোট নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেই।’ তবে অনানুষ্ঠানিকভাবে দুই দলের নেতাদের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে বিএনপির এক সূত্র জানায়, তারা এনসিপিকে ২০টি আসন ছাড়াতে প্রস্তুত, যেখানে ৮ জন জয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। তরুণ ভোটারদের গুরুত্বের কথা মাথায় রেখে বিএনপি তরুণ প্রার্থীদের অধিক মনোনয়ন দেয়ার পরিকল্পনা করছে। ঢাকার একটি সূত্র জানিয়েছে, দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপার্সন তারেক রহমানকে তরুণদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বার্তা পাঠানো হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে মোট ভোটারদের প্রায় ৬০ শতাংশ তরুণ। ফলে তরুণ ভোটারদের মন জয় করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। নির্বাচনে তরুণ প্রার্থীদের সক্রিয় ভূমিকা ভোটের ফলাফলেও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
সুতরাং, বিএনপি-এনসিপি জোটের ভবিষ্যৎ এখনও অনিশ্চিত হলেও, রাজনৈতিক মঞ্চে তাদের মিলনের সম্ভাবনা পুরোপুরি শেষ নয়। আগামী নির্বাচনে তরুণ প্রার্থীদের ভূমিকা এবং দলের কৌশলই সিদ্ধান্ত নেবে রাজনীতির পরবর্তী দিক।


