১৫ মাস পর আবারও ভারতকে চিঠি দিচ্ছে বাংলাদেশ: মৈত্রী, মিতালি ও বন্ধন ট্রেন চালুর উদ্যোগ
বাংলাদেশ-ভারত রেল যোগাযোগের তিন আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন — মৈত্রী, মিতালি ও বন্ধন এক্সপ্রেস — ১৫ মাস ধরে বন্ধ রয়েছে। নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা জানিয়ে ভারত এখনও ট্রেন চালাতে রাজি হয়নি। তবে বাংলাদেশ আবারও ভারতকে চিঠি দিতে যাচ্ছে ট্রেন চলাচল পুনরায় শুরু করার অনুরোধ জানিয়ে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, আগামী মার্চে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ-ভারতের ৩৮তম ইনট্রা-গভর্নমেন্ট রেলওয়ে মিটিং (আইজিআরএম)। এর প্রস্তুতিমূলক বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ভারতকে তৃতীয়বারের মতো আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হবে।
চিঠিতে শুধু ট্রেন চালুর অনুরোধ নয়, লাগেজ ভ্যান সংযোজন এবং রাজশাহী-কলকাতা নতুন রুট চালুর প্রস্তাবও থাকবে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে চায়, মৈত্রী এক্সপ্রেস এখন থেকে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-কলকাতা রুটে চলাচল করুক। এজন্য দ্রুততম সময়ে ভারতীয় রেলওয়েকে নতুন রুটে ট্রেন চালানোর প্রস্তাব পাঠানো হবে। প্রস্তাবে রাতের ট্রেন চলাচল এবং আপ লাইন ক্রসওভার তৈরির বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলাম বলেন,
“ভারতের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র পথ হচ্ছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চিঠি। আমরা আগেও দুবার চিঠি দিয়েছি, কিন্তু কোনো জবাব পাইনি। ভারত নিরাপত্তা ইস্যুর কারণ দেখিয়ে ট্রেন চালাতে রাজি হয়নি।”
ভারতের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে এখনও যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচলের জন্য ‘নিরাপদ’ ঘোষণা করা হয়নি। ফলে পণ্যবাহী ট্রেন চললেও যাত্রী পরিবহন এখনো বন্ধ।
বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন বলেন,
“আমরা পুরোপুরি প্রস্তুত। ভারত সম্মতি দিলেই ট্রেন চলাচল শুরু করা সম্ভব।”
২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কারণে দেশে অস্থির পরিস্থিতি তৈরি হলে তৎকালীন সরকার সারাদেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেয়। ফলে বন্ধ হয়ে যায় আন্তঃদেশীয় ট্রেনগুলোও।
এক মাস পর পণ্যবাহী ট্রেন চালু হলেও যাত্রীবাহী ট্রেনগুলো আজও বন্ধ রয়েছে।
বর্তমানে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পাঁচটি রেল ইন্টারচেঞ্জ সচল থাকলেও কোনো যাত্রীবাহী ট্রেন চলছে না।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন,
“এটি সম্পূর্ণ কূটনৈতিক ইস্যু। চিঠি পাঠানো হচ্ছে, তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দুই দেশের রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর নির্ভর করছে।”


