জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি হতে পারে চলতি মাসে

জাতীয়
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি হতে পারে চলতি মাসে
নিউজ ডেস্ক
৯ নভেম্বর ২০২৫

চলতি মাসের মাঝামাঝি ‘জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ–২০২৫’ জারি করতে পারে অন্তর্বর্তী সরকার। সূত্র জানায়, এ লক্ষ্যে খসড়া আদেশ চূড়ান্ত করার কাজ শুরু হয়েছে।

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্যমত্য না হলে সরকার নিজেই আদেশের চূড়ান্ত রূপরেখা নির্ধারণ করবে। আগামী বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ খসড়া উত্থাপনের সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের সূত্র জানিয়েছে, গণভোট কবে অনুষ্ঠিত হবে তা নির্ধারণ করবেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
এ সংক্রান্ত কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, আদিলুর রহমান, ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানকে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

সরকারি সূত্র অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোকে সমঝোতার জন্য সাত দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছিল, যা আজ (রোববার) শেষ হচ্ছে।
উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির জানিয়েছেন,

“দলগুলো সমঝোতায় না এলে সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ চলতি মাসেই জারি হতে পারে।”

গত ৩০ অক্টোবরের বৈঠকে অধিকাংশ উপদেষ্টা ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের পক্ষে ছিলেন। তবে পরবর্তী বৈঠকে কিছু উপদেষ্টা প্রশ্ন তোলেন— নির্বাচনের আগে যেসব সংস্কার কার্যকর করতে হবে, সেগুলোর কী হবে যদি গণভোট একদিনেই হয়?

ঐকমত্য কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে, গণভোটে আদেশ অনুমোদিত হলে দ্বৈত ভূমিকার সংসদ গঠন করা হবে, যা সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে কাজ করবে।
তবে কমিশনের প্রস্তাবে বলা নেই, আদেশ কে জারি করবে বা গণভোট কবে হবে— এই দুই সিদ্ধান্ত সরকারের হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

দ্বিতীয় খসড়ায় বলা হয়েছে, গণভোট হবে আদেশ এবং সংযুক্ত ৪৮টি সংস্কার প্রস্তাবের ওপর, যা অনুমোদিত হলে পরিষদ ২৭০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করবে।

বিএনপি বলছে, গণভোটে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ (ভিন্নমত) থাকতে হবে, যাতে প্রত্যেক দল নিজেদের প্রস্তাব নিয়ে ভোটে যেতে পারে। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) নোট অব ডিসেন্ট ছাড়া গণভোট চায়।

বিএনপি গণভোট ও নির্বাচন একসঙ্গে করার পক্ষে, আর জামায়াত ও এনসিপি বলছে, গণভোট নির্বাচন-পূর্বেই হতে হবে।

শেষ সাত দিনে দলগুলোর মধ্যে কোনো আলোচনা হয়নি। বিএনপি জানিয়েছে, তারা শুধুমাত্র প্রধান উপদেষ্টার আহ্বানে আলোচনায় যাবে। অন্যদিকে জামায়াত বলেছে, বিএনপিকে আলোচনায় ডাকলেও তারা সাড়া দেয়নি।

এনসিপিসহ নয়টি দলের মধ্যস্থতা এবং উপদেষ্টাদের প্রচেষ্টা ফলপ্রসূ হয়নি। সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্র বলছে,

“এখন থেকে আলোচনার জন্য সরকার কাউকে ডাকবে না। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা এড়াতে দলগুলোকে সরকারের সিদ্ধান্ত মানতে হবে।”

২০১১ সালে সংবিধানের ১৫তম সংশোধনীর মাধ্যমে গণভোটের বিধান বাতিল করা হয়। তবে গত বছর হাইকোর্ট এক রায়ে গণভোট-সংক্রান্ত অনুচ্ছেদ পুনর্বহালের নির্দেশ দেয়।

বিএনপি বলছে, সংবিধানে সংশোধন করে তবেই গণভোট করা সম্ভব। আর জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন,

“যদি বিধান না থাকে, তবে ১৯৭৭ ও ১৯৯১ সালে কীভাবে গণভোট হয়েছিল? এবারও নভেম্বরে নির্বাচন-পূর্ব গণভোট হতে হবে।”

জামায়াত ও এনসিপির দাবি, আদেশটি জারি করতে হবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার মাধ্যমে, আওয়ামী লীগ-মনোনীত রাষ্ট্রপতির নয়।

অন্তর্বর্তী সরকারের একাধিক উপদেষ্টা জানিয়েছেন,

“আদেশ জারি হবে আইনানুগভাবে— রাষ্ট্রপতির মাধ্যমে।”

গত ১৭ অক্টোবর প্রধান উপদেষ্টার উপস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলো যে জুলাই সনদে সই করে, তাতে রয়েছে ৮৪টি সংস্কার প্রস্তাব— যার মধ্যে উচ্চকক্ষ গঠন, পিআর পদ্ধতি ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা-সংক্রান্ত প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত।

তবে বিএনপির ১৫টি প্রস্তাবে নোট অব ডিসেন্ট থাকায় বিতর্ক আরও গভীর হয়েছে। জামায়াত ও এনসিপি মনে করছে, বিএনপি ভবিষ্যতে ক্ষমতায় গিয়ে নিজেদের মতো করে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা গঠনের সুযোগ রাখতে চাইছে।