ড. ইউনূস সরকার হটানোর পরিকল্পনা নিয়ে হাসিনা-পুতুলের তর্কাতর্কি

রাজনীতি
ড. ইউনূস সরকার হটানোর পরিকল্পনা নিয়ে হাসিনা-পুতুলের তর্কাতর্কি
নিউজ ডেস্ক
১২ নভেম্বর ২০২৫

প্রতিবেশী দেশ ভারতের রাজধানী দিল্লিতে অবস্থানরত বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ঘিরে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছে, সেখানে অবস্থান নিয়েই তিনি ও তাঁর ঘনিষ্ঠ নেতারা রাজনৈতিক কৌশল নিয়ে বৈঠক করছেন। তবে এসব দাবির কোনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।

নিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য অনুযায়ী, দিল্লির অভিজাত লুটিয়েন্স বাংলো জোনে বাংলাদেশি এক সাবেক উচ্চপদস্থ কূটনীতিকের তত্ত্বাবধানে শেখ হাসিনা অবস্থান করছেন। সেখানে তাঁর মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুলও আছেন বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক অস্থির পরিস্থিতি ও চলমান মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে এই অবস্থান অনেক তাৎপর্য বহন করছে।

একাধিক সূত্র দাবি করেছে, গত ১১ অক্টোবর দিল্লিতে শেখ হাসিনার বাসভবনে সাবেক সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তা এবং দলীয় নেতাদের নিয়ে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক করণীয় ও সাংগঠনিক পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা যায়। তবে অংশগ্রহণকারীদের কেউ এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

সূত্র জানায়, বৈঠকে দলকে পুনর্গঠন, তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং চলমান আইনি প্রক্রিয়া মোকাবিলায় কৌশল নির্ধারণের ওপর জোর দেওয়া হয়। পাশাপাশি দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা নিয়েও আলোচনা হয়।

সূত্র জানায়, ড. ইউনূস সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন নিয়ে পরিকল্পনা কীভাবে সাজানো যায় এবং দ্রুত সফলতা পাওয়া যায়, তা নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ নিয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল মাকে এ ধরনের তৎপরতা বন্ধ রাখার কথা বললে হাসিনা রেগে যান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের মতবিরোধ পারিবারিক বিষয় হলেও তা ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলে প্রভাব ফেলতে পারে।

এদিকে, সরকার পতনের ষড়যন্ত্র ও নাশকতার প্রস্তুতির অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী রাজধানী ও আশপাশের এলাকায় অভিযান জোরদার করেছে। গত এক সপ্তাহে অন্তত ৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তাঁদের কাছ থেকে দেশি অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেন, “যে কোনো নাশকতা বা বিশৃঙ্খলার প্রচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।”

আন্তর্জাতিক মহলে এ ঘটনাপ্রবাহ নজর কেড়েছে। দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার বিষয়ে ভারত সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য না করলেও কূটনৈতিক সূত্র বলছে, বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে রাজনৈতিক ও বাংলাদেশভিত্তিক।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতি এখন নতুন মোড়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে সরকারের নিরাপত্তা তৎপরতা, অন্যদিকে পলাতক নেতাদের বৈঠক—সব মিলিয়ে আসন্ন দিনগুলো দেশটির রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে যাচ্ছে।

সূত্র: আমার দেশ