এনইআইআর বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন সিন্ডিকেট গঠনের অভিযোগ মোবাইল ব্যবসায়ীদের

এনইআইআর বাস্তবায়ন নিয়ে নতুন সিন্ডিকেট গঠনের অভিযোগ মোবাইল ব্যবসায়ীদের
নিউজ ডেস্ক
১৯ নভেম্বর ২০২৫

এনইআইআর (ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার) চালু করার প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দেশের মোবাইল ফোন বাজারে নতুন করে সিন্ডিকেট তৈরির চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশের নেতারা। তাদের দাবি, দেশের প্রায় ৬০–৭০ শতাংশ সাধারণ ব্যবসায়ীকে প্রান্তিক করে মাত্র ৩০ শতাংশ প্রভাবশালী গোষ্ঠীর স্বার্থে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির নেতারা জানান, তারা এনইআইআর বাতিল চান না, বরং সিস্টেমটি পর্যালোচনা ও পুনর্গঠনের জন্য অন্তত এক বছরের সময় প্রয়োজন। পাশাপাশি বাস্তবায়নের আগে ব্যবসায়ীদের মতামত জানতে গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজনের দাবি জানান।

সংবাদ সম্মেলনে সিনিয়র সহ-সভাপতি শামীম মোল্লা, কেন্দ্রীয় নেতা ও চট্টগ্রাম বিজনেস ফোরামের সভাপতি আরিফুর রহমান, শাহ আলম বোখারীসহ বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

নেতারা অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে সংবাদ সম্মেলন ভণ্ডুল করতে মঙ্গলবার রাত ৩টায় সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক পিয়াসকে আটক করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য, বাজার নিয়ন্ত্রণে সক্রিয় একটি প্রভাবশালী চক্র পিয়াসকে টার্গেট করেছে।

আয়োজকদের একজন আরিফুর রহমান বলেন, ব্যাগেজ রুলসের আওতায় বৈধভাবে দেশে আনা মোবাইল সেট বিক্রিতে বিধিনিষেধ আরোপ করা হলে লাখো ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। এনইআইআর চালুর ফলে সম্ভাব্য ৫৭ শতাংশ পর্যন্ত কর বৃদ্ধি হলে ফোনের দাম কয়েক গুণ বাড়তে পারে। এতে ছাত্র-ছাত্রী, নিম্নআয়ের মানুষ, দিনমজুর–রিকশাচালকসহ সাধারণ ক্রেতারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়বেন।

তার মতে, গ্রে মার্কেটে কম দামে উচ্চ কনফিগারেশনের ফোন পাওয়া যায়, যা দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষকে প্রযুক্তিতে এগিয়ে রাখতে ভূমিকা রেখেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন—মাত্র ১৮ জন লাইসেন্সধারীর মাধ্যমে পুরো বাজার নিয়ন্ত্রণের উদ্যোগ কতটা যুক্তিসঙ্গত?

সংগঠনের অভিযোগ, দেশের মোবাইল বাজার বর্তমানে কেবল ১৮ জন লাইসেন্সধারীর নিয়ন্ত্রণে। ২০ কোটি মানুষের দেশে এ সংখ্যা অযৌক্তিক দাবি করে লাইসেন্স সংখ্যা অন্তত পাঁচ হাজারে উন্নীত করার প্রস্তাব করেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বিটিআরসি চেয়ারম্যানের সাম্প্রতিক মন্তব্যের বিরুদ্ধেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। শামীম মোল্লার প্রশ্ন— ব্যাগেজ রুলস অনুযায়ী সরকার অনুমোদিত পণ্য বিক্রি করলে তা কীভাবে ‘অবৈধ’ হতে পারে? তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা ট্যাক্স দিতে প্রস্তুত, তবে নীতিমালা হতে হবে যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত।

ব্যবসায়ী নেতারা সতর্ক করে বলেন, সিন্ডিকেটবাদী সিদ্ধান্তের ফলে বাজার অস্থিতিশীল হলে জনগণের ক্ষোভ বাড়বে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন হয়ে পড়বে। প্রয়োজনে তারা গণআন্দোলনের ডাক দিতে বাধ্য হবেন বলেও জানানো হয়।