হাসিনার ৫ বছর, রেহানার ৭ বছর ও টিউলিপের ২ বছরের কারাদণ্ড
রাজধানীর পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ক্ষমতার অপব্যবহার ও জালিয়াতির মাধ্যমে প্লট বরাদ্দের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় শেখ রেহানাসহ মোট ১৭ জনকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার দুপুর পৌনে ১২টায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক মো. রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করেন।
মূল আসামিদের সাজা
শেখ রেহানা: জালিয়াতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের দায়ে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড,
টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিক: ২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড,
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আরও ১৫ জন: প্রত্যেকে ৫ বছরের কারাদণ্ড।
একই সঙ্গে প্রত্যেক আসামিকে ১ লাখ টাকা জরিমানা ও অনাদায়ে ৬ মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডিত ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় ও রাজউকের সাবেক একাধিক কর্মকর্তা:
মো. সাইফুল ইসলাম সরকার (প্রশাসনিক কর্মকর্তা),পূরবী গোলদার (সিনিয়র সহকারী সচিব),অলিউল্লাহ (অতিরিক্ত সচিব),কাজী ওয়াছি উদ্দিন (সচিব),আনিছুর রহমান মিঞা (সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ, রাজউক),মোহাম্মদ খুরশীদ আলম (সাবেক সদস্য, রাজউক),তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন,মেজর (অব.) সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী (ইঞ্জিনিয়ার),মো. নুরুল ইসলাম (সাবেক পরিচালক),মাজহারুল ইসলাম (সহকারী পরিচালক),নায়েব আলী শরীফ (উপ-পরিচালক),মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন (সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১),শরীফ আহমেদ (সাবেক প্রতিমন্ত্রী)।
রায়ে জানানো হয়—দণ্ডিতদের মধ্যে মোহাম্মদ খুরশীদ আলম আগে থেকেই গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন। বাকিরা পলাতক থাকায় তাদের বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
দুদকের উপ-পরিচালক সালাহউদ্দিন এ বছরের ১৩ জানুয়ারি মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগ ছিল—পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে ১০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নিতে অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে।
তদন্ত শেষে দুদকের সহকারী পরিচালক আফনান জান্নাত কেয়া ১০ মার্চ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
গত ৩১ জুলাই আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করে। বিচার চলাকালে ৩২ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দেন।
মামলায় দুদকের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর তারিকুল ইসলাম এবং খুরশীদ আলমের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী শাহীনুর রহমান।


