গুজবে কান না দিতে অনুরোধ, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে যৌথ মেডিকেল টিমের অধীনে

রাজনীতি
গুজবে কান না দিতে অনুরোধ, খালেদা জিয়ার চিকিৎসা চলছে যৌথ মেডিকেল টিমের অধীনে
নিউজ ডেস্ক
২ ডিসেম্বর ২০২৫

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে চিকিৎসা গ্রহণে সক্ষম এবং তার শারীরিক অবস্থা চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে বলে জানিয়েছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। একই সঙ্গে চিকিৎসা–সংক্রান্ত যেকোনো গুজব উপেক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) রাজধানীর বসুন্ধরায় এভারকেয়ার হাসপাতালের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি খালেদা জিয়ার সর্বশেষ চিকিৎসা পরিস্থিতি তুলে ধরেন।

ডা. জাহিদ জানান, খালেদা জিয়া বাংলাদেশ, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ মেডিকেল টিমের অধীনে চিকিৎসাধীন আছেন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বিদেশি ও দেশি চিকিৎসকদের সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় করছেন এবং সার্বক্ষণিকভাবে চিকিৎসাপ্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করছেন বলেও জানান তিনি।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তিনি বলেন, মেডিকেল বোর্ডের পরামর্শ ছাড়া দেশের বাইরে চিকিৎসার ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না। রোগীকে স্থানান্তরযোগ্য মনে হলে এবং প্রয়োজনীয় অবস্থা তৈরি হলে তবেই বিদেশে নেওয়া হবে। “সব প্রস্তুতি থাকলেও চিকিৎসকদের পরামর্শই এখানে চূড়ান্ত,” জানান ডা. জাহিদ।

এ সময় তিনি দেশবাসীর কাছে খালেদা জিয়ার জন্য দোয়া কামনা করেন এবং বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভ্রান্তিকর তথ্য সম্পর্কে সতর্ক থাকতে অনুরোধ জানান। তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের বিষয়ে ব্রিফ করার দায়িত্ব তার, আর দলের অন্যান্য বিষয়ে ব্রিফ করবেন সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজবি। এর বাইরে অন্য কোনো বক্তব্যে কান না দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

গত ২৩ নভেম্বর থেকে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন খালেদা জিয়া। প্রথমদিকে বিভিন্ন শারীরিক পরীক্ষায় তার ফুসফুসে সংক্রমণ ধরা পড়ে। পরে অবস্থার অবনতি হওয়ায় ২৭ নভেম্বর থেকে তাকে ক্রিটিক্যাল কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) রেখে বিশেষ পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

এদিকে, হাসপাতালে ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গত রাত থেকেই এভারকেয়ার হাসপাতাল এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মূল ফটকের দুই পাশে ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছে এবং পুলিশ সদস্যদের টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। অযথা ভিড় বা সংশ্লিষ্ট নয় এমন ব্যক্তিদের হাসপাতালে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে, রোগীদের নির্বিঘ্ন চলাচল রক্ষা এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।