কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্যের দাম চড়া, ক্রেতাদের স্বস্তি নেই
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্যের দামে চাপ অব্যাহত রয়েছে। শীতের সবজির সরবরাহ পর্যাপ্ত থাকলেও দামে স্বস্তি মিলছে না। মাছ, মাংস, চাল, ডাল ও ভোজ্যতেলের উচ্চমূল্যে সাধারণ মানুষের বাজার খরচ ক্রমেই বাড়ছে।
মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, রামপুরা, খিলগাঁওসহ বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ফুলকপি, বাঁধাকপি, টমেটো, শিম, গাজর, মুলা ও শালগমসহ শীতকালীন সবজির প্রাচুর্য থাকলেও অধিকাংশ পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। সবজির চড়া দামে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।
বাজারে টমেটোর কেজি ১০০ থেকে ১২০ টাকা, গাজর ও বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা, শিম ৬০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ফুলকপি ও বাঁধাকপি প্রতি পিস ৩০ থেকে ৬০ টাকা, মুলা ৩০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এক আঁটি পালংশাক কিনতে গুনতে হচ্ছে ২০ টাকা।
মাছের বাজারেও দামের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা গেছে। মাঝারি সাইজের রুই মাছের কেজি ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা, শিং ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, চিংড়ি ৭৫০ থেকে ৯০০ টাকা এবং তেলাপিয়া ২২০ থেকে ২৫০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।
মাংসের বাজারে গরুর মাংসের কেজি ৭৮০ টাকা এবং খাসির মাংস ১ হাজার ১০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্রয়লার মুরগির কেজি ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা এবং ডিমের ডজন ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় কিছুটা কম দামে পাওয়া যাচ্ছে।
মুদি দোকানগুলোতে চাল, ডাল ও ভোজ্যতেলের দামও উচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। মোটা চালের কেজি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, চিকন চাল ৭৮ থেকে ৮৫ টাকা, মসুর ডাল ১৬০ থেকে ১৭০ টাকা এবং মুগডাল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। এক লিটার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম ১৯৫ টাকা।
খিলগাঁওয়ে বাজার করতে আসা গৃহিণী রেহানা বেগম বলেন, “মাসের বাজার করতে গেলে হিসাব মেলানো সবচেয়ে কঠিন হয়ে গেছে। আয় বাড়ছে না, কিন্তু বাজার খরচ দিন দিন বাড়ছে।”
ব্যবসায়ীরা জানান, আড়ত পর্যায়ে পণ্যের দাম বেশি থাকায় খুচরা বাজারে দাম কম রাখা সম্ভব হচ্ছে না। পরিবহন ও অন্যান্য ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিক্রেতারাও চাপের মুখে রয়েছেন।
সবমিলিয়ে রাজধানীর কাঁচাবাজারে নিত্যপণ্যের দামে এখনো স্বস্তি ফেরেনি। ক্রেতাদের প্রত্যাশা, বাজারে কার্যকর নজরদারি ও বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপের মাধ্যমে দ্রুত দাম নিয়ন্ত্রণে আনা হবে।


