তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ অনুমোদনে অন্তর্বর্তী সরকারকে অভিনন্দন তামাকবিরোধী জোটের

জাতীয়
তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ অনুমোদনে অন্তর্বর্তী সরকারকে অভিনন্দন তামাকবিরোধী জোটের
নিউজ ডেস্ক
২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও তরুণ প্রজন্মকে তামাকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে রক্ষায় ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদনের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারকে অভিনন্দন জানিয়েছে বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট (বাটা)।

শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জোটটি জানায়, দীর্ঘ এক যুগ পর তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে এই সংশোধন একটি সময়োপযোগী ও সাহসী পদক্ষেপ। বিশেষ করে ই-সিগারেট, হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্টসহ নতুন তামাক ও নিকোটিনজাত পণ্যের উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তকে জনস্বাস্থ্যের জন্য যুগান্তকারী অগ্রগতি হিসেবে দেখছে সংগঠনটি।

বাটার মতে, অনুমোদিত অধ্যাদেশের উল্লেখযোগ্য দিকগুলোর মধ্যে রয়েছে—সব পাবলিক প্লেস ও গণপরিবহনে ধূমপানসহ সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার নিষিদ্ধ করা, তামাক পণ্যের বিজ্ঞাপন ও প্রচার সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করা এবং মোড়কে স্বাস্থ্য সতর্কবার্তার পরিসর ৭৫ শতাংশে উন্নীত করা। পাশাপাশি নিকোটিন পাউচসহ নতুন পণ্যকে তামাকজাত দ্রব্যের সংজ্ঞার আওতায় আনার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তবে সংগঠনটি উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর দুটি ব্যবস্থা—খুচরা শলাকা বিক্রি নিষিদ্ধকরণ এবং তামাক বিক্রেতাদের লাইসেন্স বা নিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা—অধ্যাদেশে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। এর ফলে শিশু-কিশোর ও স্বল্প আয়ের মানুষ সহজেই তামাক পণ্যের নাগালে পৌঁছে যাচ্ছে, যা আইনটির মূল উদ্দেশ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, তামাক কোম্পানির কর ফাঁকি, অবৈধ বাণিজ্য ও অপ্রাপ্তবয়স্কদের কাছে তামাক বিক্রি রোধে বিক্রেতা নিবন্ধন এবং খুচরা শলাকা বিক্রি নিষিদ্ধ করা অত্যন্ত জরুরি। সরকার দ্রুত এ বিষয়ে পরিপূরক আইনগত ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নেবে বলে আশা প্রকাশ করেছে জোটটি।

বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোটের তথ্যমতে, দেশে প্রতিবছর তামাকজনিত রোগে ১ লাখ ৬১ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয় এবং তামাক ব্যবহারের কারণে স্বাস্থ্য ব্যয়, পরিবেশগত ক্ষতি ও উৎপাদনশীলতা হ্রাসসহ মোট আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ বছরে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা।

সবশেষে, তামাকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সরকার, রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম, সিভিল সোসাইটি এবং তরুণ সমাজকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।