প্রতিদ্বন্দ্বীকে নির্বাচনে লড়তে দিচ্ছেন না ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী

প্রতিদ্বন্দ্বীকে নির্বাচনে লড়তে দিচ্ছেন না ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী
নিউজ ডেস্ক
২৬ জানুয়ারি ২০২৬

যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার পার্টিতে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আরও প্রকট হয়ে উঠেছে। সাবেক মন্ত্রী ও গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে আসন্ন উপনির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অনুমতি না দেওয়ায় দলটির ভেতরে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সম্ভাব্য নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জ ঠেকাতেই প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও তার ঘনিষ্ঠরা এই সিদ্ধান্তে প্রভাব রেখেছেন।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাতে লেবার পার্টির ন্যাশনাল এক্সিকিউটিভ কমিটির (এনইসি) অধীন ১০ সদস্যের ‘অফিসার্স গ্রুপ’ ভোটাভুটির মাধ্যমে বার্নহ্যামের আবেদন নাকচ করে দেয়। আট–এক ভোটে গৃহীত এই সিদ্ধান্তে একমাত্র লুসি পাওয়েল বার্নহ্যামের পক্ষে ভোট দেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ নিরপেক্ষ অবস্থান নেন। প্রধানমন্ত্রী স্টারমার নিজেও এই গ্রুপের সদস্য ছিলেন।

এনইসি জানায়, বার্নহ্যাম পার্লামেন্টে ফিরলে গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র পদে নতুন নির্বাচন আয়োজন করতে হবে, যা ব্যয়বহুল এবং রাজনৈতিকভাবে অস্থিতিশীল হতে পারে। তার মেয়াদের অর্ধেক সময়ও শেষ হয়নি—এ বিষয়টিও সিদ্ধান্তের পেছনে কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

তবে এই যুক্তিতে সন্তুষ্ট নন লেবার পার্টির একাধিক এমপি ও দলীয় নেতারা। অনেকে একে ‘ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর স্বার্থে নেওয়া সিদ্ধান্ত’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। দলটির ভেতরে এই সিদ্ধান্তকে ভুল ও নেতৃত্বের অপরিপক্বতার উদাহরণ হিসেবেও দেখা হচ্ছে।

শ্রমিক ইউনিয়ন ইউনিসনের প্রধান আন্দ্রেয়া এগান বলেন, দলীয় সদস্যরা এই সিদ্ধান্তে হতাশ ও ক্ষুব্ধ হবেন। একাধিক শ্রমিক ইউনিয়ন যৌথভাবে বিষয়টি পুনর্বিবেচনার দাবি তুলতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। একটি ইউনিয়নের সূত্র সিদ্ধান্তটিকে ‘প্রকাশ্য কারচুপি’ বলে মন্তব্য করেছে।

সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় অ্যান্ডি বার্নহ্যাম বলেন, তিনি সিদ্ধান্তে হতাশ এবং কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে লেবার পার্টির দিকনির্দেশনা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। একই সঙ্গে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, এই সিদ্ধান্ত উপনির্বাচনে দলের সম্ভাবনাকে দুর্বল করতে পারে। উত্তর-পশ্চিম ইংল্যান্ডের লেবার নেতাদের মতে, এর ফলে রিফর্ম ইউকে ওই আসনে সুবিধা পেতে পারে।

সাম্প্রতিক সময়গুলোতে জনমত জরিপে পিছিয়ে পড়া, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনা এবং রিফর্ম ইউকের উত্থান—সব মিলিয়ে স্টারমারের ওপর দলের ভেতরে চাপ বাড়ছে। তার ঘনিষ্ঠদের মতে, বার্নহ্যামকে ওয়েস্টমিনস্টারে না আনা হলে নেতৃত্ব নিয়ে বিভাজন এড়ানো সম্ভব হবে। তবে এই সিদ্ধান্তে দলীয় বিভক্তি আরও গভীর হয়েছে বলেই মনে করছেন অনেকে।

উল্লেখ্য, জ্বালানিমন্ত্রী এড মিলিব্যান্ড, লন্ডনের মেয়র সাদিক খান, উপনেত্রী লুসি পাওয়েল এবং উপপ্রধানমন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার প্রকাশ্যে বার্নহ্যামকে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছিলেন।

লেবার পার্টির এক বিবৃতিতে বলা হয়, দলীয় নিয়ম অনুযায়ী কোনো বর্তমান মেয়র সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলে এনইসির অনুমতি প্রয়োজন। সেই নিয়ম অনুসারেই অ্যান্ডি বার্নহ্যামকে অনুমতি না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের ধারণা, এই সিদ্ধান্ত লেবার পার্টির অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও ভবিষ্যৎ নির্বাচনী কৌশলের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে।