ভারতের নতুন বাজেটে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ কমে অর্ধেক
ভারতের ২০২৬–২৭ অর্থবছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে বাংলাদেশের জন্য বরাদ্দ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো হয়েছে। নতুন বাজেটে বাংলাদেশকে দেওয়া হয়েছে ৬০ কোটি রুপি, যা আগের অর্থবছরের ১২০ কোটি রুপির তুলনায় অর্ধেক।
ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়ে উদ্বেগ এবং ২০২৪ সালে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ঢাকার পররাষ্ট্রনীতিতে পাকিস্তানমুখী অবস্থানের প্রেক্ষাপটেই এই বরাদ্দ হ্রাসের সিদ্ধান্ত এসেছে।
গত বৃহস্পতিবার রাজ্যসভায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের, বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে সহিংসতার অভিযোগ সরকার ‘নিরবচ্ছিন্নভাবে পর্যবেক্ষণ’ করছে। এ বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং বলেন, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উভয় পর্যায়ে বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের কাছে একাধিকবার সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি জোরালোভাবে উত্থাপন করেছে নয়াদিল্লি।
তিনি আরও জানান, ২০২৫ সালের ৪ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা প্রসঙ্গ তুলেছিলেন।
অন্যদিকে, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে বাংলাদেশ–পাকিস্তান সম্পর্ক নতুন মাত্রা পাচ্ছে। ২০২৪ সালে মিশরে এক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফাঁকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সঙ্গে বৈঠকে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ১৯৭১ সালের অমীমাংসিত বিষয়গুলোর সমাধানে আগ্রহ প্রকাশ করেন। বৈঠকটিকে ‘উষ্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করেন শাহবাজ শরিফ।
এর পর দুই দেশ কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসামুক্ত ভ্রমণ, যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন (জেইসি) পুনরুজ্জীবন এবং নতুন বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়। উল্লেখ্য, বাংলাদেশ–পাকিস্তান যৌথ অর্থনৈতিক কমিশনের সর্বশেষ বৈঠক হয়েছিল ২০০৫ সালে।
সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে সরাসরি কার্গো জাহাজ চলাচল শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে পাকিস্তানের ফ্লাই জিন্নাহ ও এয়ার সিয়ালকে ঢাকার সঙ্গে সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার ১৪ বছর পর ঢাকা থেকে একটি ফ্লাইট করাচির জিন্নাহ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
এই সামগ্রিক প্রেক্ষাপটে ভারত–বাংলাদেশ সম্পর্কের দূরত্ব আরও স্পষ্ট হচ্ছে বলে মনে করছেন ভারতীয় কৌশলগত বিশ্লেষকরা।
ভারতের এবারের বাজেটে ইরানের চাবাহার বন্দরের জন্য কোনো অর্থ বরাদ্দ রাখা হয়নি। যুক্তরাষ্ট্রের নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার প্রতিক্রিয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। চাবাহার প্রকল্পে ভারতের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া ছাড়ের মেয়াদ আগামী ২৬ এপ্রিল শেষ হচ্ছে।
এদিকে ভারতের বৈদেশিক সহায়তার সবচেয়ে বড় অংশ পাচ্ছে ভুটান। দেশটির জন্য বরাদ্দ ধরা হয়েছে ২ হাজার ২৮৯ কোটি রুপি, যা আগের অর্থবছরের তুলনায় বেশি।
উল্লেখ্য, রোববার ভারতের পার্লামেন্টে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের এই বাজেট উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামণ। এটি তার টানা নবম বাজেট।


