এপস্টেইনের সঙ্গে নতুন তথ্য প্রকাশ, দল ছাড়লেন সাবেক ব্রিটিশ মন্ত্রী
যুক্তরাজ্যের সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ও প্রভাবশালী লেবার পার্টি নেতা পিটার ম্যান্ডেলসন দল থেকে পদত্যাগ করেছেন। কুখ্যাত অর্থলগ্নিকারী জেফ্রি এপস্টাইনের সঙ্গে তার সম্পর্ক সংক্রান্ত নতুন তথ্য প্রকাশের পর তিনি এ সিদ্ধান্ত নেন।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) ব্রিটিশ গণমাধ্যমের বরাতে আলজাজিরা এ তথ্য জানায়। প্রতিবেদনে বলা হয়, দলের জন্য আরও অস্বস্তিকর পরিস্থিতি এড়াতেই ম্যান্ডেলসন স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।
এর আগে গত বছর এপস্টাইনের সঙ্গে যোগাযোগসংক্রান্ত ই-মেইল প্রকাশ পাওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রে যুক্তরাজ্যের শীর্ষ কূটনৈতিক পদ থেকে তাকে সরিয়ে নেওয়া হয়। বিবিসি ও দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়, লেবার পার্টিকে পাঠানো এক চিঠিতে ম্যান্ডেলসন লেখেন, এপস্টাইনকে ঘিরে সাম্প্রতিক ক্ষোভের সঙ্গে আবারও তার নাম জড়িয়ে পড়ায় তিনি দুঃখিত ও অনুতপ্ত।
চিঠিতে তিনি দাবি করেন, ২০০০-এর দশকের শুরুতে এপস্টাইনের কাছ থেকে অর্থ গ্রহণের অভিযোগ তিনি বিশ্বাস করেন না। তবে বিষয়টি যাচাই করা প্রয়োজন বলেও উল্লেখ করেন। এর আগে বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ম্যান্ডেলসন বলেন, ওই অর্থপ্রদানের কোনো স্মৃতি তার নেই এবং সংশ্লিষ্ট নথির সত্যতা নিয়েও তিনি নিশ্চিত নন। একই সঙ্গে এপস্টাইনের সঙ্গে পরিচিত হওয়াকে তিনি নিজের ভুল হিসেবেও স্বীকার করেন।
ম্যান্ডেলসন আরও লেখেন, তদন্ত চলাকালে তিনি লেবার পার্টিকে আর বিব্রত করতে চান না বলেই সদস্যপদ থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাশাপাশি এপস্টাইনের দ্বারা নির্যাতিত নারী ও কিশোরীদের কাছে ক্ষমা চেয়ে তিনি বলেন, অনেক আগেই তাদের কণ্ঠস্বর শোনা উচিত ছিল।
এর আগে ফিন্যান্সিয়াল টাইমস ও বিবিসির প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ (ডিওজে) প্রকাশিত তদন্ত নথিতে উল্লেখ রয়েছে—২০০৩ ও ২০০৪ সালে ম্যান্ডেলসন ও তার সঙ্গী এপস্টাইনের কাছ থেকে মোট ৭৫ হাজার মার্কিন ডলার পেয়েছিলেন। এসব নথি গত শুক্রবার প্রকাশ করা হয়।
নথিতে আরও একটি ছবির উল্লেখ রয়েছে, যেখানে অন্তর্বাস পরিহিত এক নারীর পাশে ম্যান্ডেলসনকে দেখা যায়। তবে মার্কিন কর্তৃপক্ষ ছবিটিতে ওই নারীর মুখ ঝাপসা করে রেখেছে। এ বিষয়ে বিবিসিকে ম্যান্ডেলসন বলেন, ছবিটি কোথায়, কবে ও কী পরিস্থিতিতে তোলা হয়েছিল—সে বিষয়ে তার কোনো স্মৃতি নেই।


