দেশে অসংক্রামক রোগে উদ্বেগজনক বৃদ্ধি

অন্যান্য
দেশে অসংক্রামক রোগে উদ্বেগজনক বৃদ্ধি
নিউজ ডেস্ক
৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশেও অসংক্রামক রোগে (Non-Communicable Diseases, NCDs) আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। বিশেষ করে হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার ও দীর্ঘস্থায়ী শ্বাসযন্ত্রের রোগে রোগীর ভিড় সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে বাড়ছে। পাশাপাশি গ্রামাঞ্চলেও এসব রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর চাপ ক্রমশ বাড়ছে।

চিকিৎসা ব্যবস্থা ও রোগীদের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, ঢাকার বাইরে উন্নত চিকিৎসাসেবা না থাকায় রোগীরা বাধ্য হয়ে রাজধানীতে আসতে হয়। এতে চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধি পায়, সময় নষ্ট হয় এবং রাজধানীভিত্তিক চাপ আরও বাড়ে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে প্রতি বছর ৩০ থেকে ৬৯ বছর বয়সের মধ্যে প্রায় ১৫ মিলিয়ন মানুষ অসংক্রামক রোগে মারা যায়। এর ৮৫ শতাংশ মৃত্যু ঘটে নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

চিকিৎসকদের মতে, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ধূমপান, অ্যালকোহল সেবন, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব ও দূষিত পরিবেশ এই রোগগুলো বৃদ্ধির প্রধান কারণ।

জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক ড. জাহাঙ্গীর কবীর বলেন, “বর্তমানে ক্যান্সার, কার্ডিয়াক, কিডনি ও ডায়াবেটিস রোগী বেশি দেখা যাচ্ছে।”

টিবি হাসপাতালের পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার বলেন, “মানুষ এখন বাইরে কম বের হচ্ছে এবং জীবনযাত্রা অনলাইনভিত্তিক হওয়ায় খেলাধুলা বা শারীরিক পরিশ্রম কমে গেছে। ব্যক্তি সচেতন না হলে এই ঝুঁকি কমানো কঠিন।”

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অসংক্রামক রোগের মূল কারণগুলো চিহ্নিত করে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ পাবলিক হেলথ ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক মোনায়েমুল ইসলাম সিজার বলেন, “গত ২০-২৫ বছরে সরকারগুলোর প্রধান জোর ছিল চিকিৎসাভিত্তিক স্বাস্থ্যব্যবস্থার ওপর। এখন প্রয়োজন প্রতিরোধমূলক ও স্বাস্থ্যসচেতনতামূলক ব্যবস্থার দিকে বেশি মনোযোগ দেওয়া। এভাবে কাজ করলে আগামী দুই দশকের মধ্যে অসংক্রামক রোগের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।”

গত এক বছরে বিশ্বে প্রায় চার কোটি ৩০ লাখ মানুষ অসংক্রামক রোগে মারা গেছে। বাংলাদেশেও প্রতিবছর প্রায় ৭১ শতাংশ মৃত্যু এই রোগে ঘটে। ফলে দীর্ঘমেয়াদে পরিবারগুলো আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব রোগ নিয়ন্ত্রণে দ্রুত ও কার্যকর সরকারি পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবি।