সিসি ক্যামেরার আওতায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র

জাতীয়
সিসি ক্যামেরার আওতায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র
নিউজ ডেস্ক
৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

বিগত স্থানীয় সরকার ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সহিংসতার অভিজ্ঞতা বিবেচনায় আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুমিল্লা জেলার ৯৩৪টি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে নির্বাচন প্রশাসন। এর মধ্যে কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) ও কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের সব ভোটকেন্দ্রই ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে।

জেলা রিটার্নিং অফিসার কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলার ১১টি সংসদীয় আসনের ১৭টি উপজেলায় মোট ১ হাজার ৪৯১টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে। এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ৯৩৪টি কেন্দ্রে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে ৫২৮টি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা রয়েছে এবং নতুন করে আরও ৮৪৮টি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ২০২১ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে কুমিল্লার মেঘনা উপজেলায় একাধিক সহিংস ঘটনার কারণে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। ওই সময় চালিভাঙ্গা, ভাওরখোলা ও মানিকারচর ইউনিয়নে সংঘর্ষে দুইজন নিহত এবং অর্ধশতাধিক মানুষ আহত হন। একই বছর দেবিদ্বার উপজেলা পরিষদ উপনির্বাচনের আগেও রাজনৈতিক সংঘর্ষ ও গুলির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার প্রেক্ষিতে দেবিদ্বার ও মেঘনা উপজেলার অধিকাংশ ভোটকেন্দ্রকে এবার ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

দেবিদ্বার উপজেলায় মোট ১১৬টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৭০টি ঝুঁকিপূর্ণ। কুমিল্লা-৪ আসনে বিএনপির প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হওয়ায় গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়ায় ভোটের প্রতিদ্বন্দ্বিতা তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ উপজেলায় শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণের লক্ষ্যে ৯৮টি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার রাকিবুল হাসান।

অন্যদিকে, কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) আসনের ১২৭টি ভোটকেন্দ্রের সবকটিকেই ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়েছে। ফলে শতভাগ কেন্দ্র সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হচ্ছে। এই আসনে বিএনপি ও জামায়াত প্রার্থীর মধ্যে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে বলে জানান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নুরুল আমিন।

কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) উপজেলায় জেলার সর্বাধিক ১৫৯টি ভোটকেন্দ্র রয়েছে এবং সবগুলোই ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। এখানে প্রতিটি কেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন ও অতিরিক্ত নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া দাউদকান্দি, বুড়িচং, লালমাই, নাঙ্গলকোট, বরুড়া, চান্দিনা, লাকসামসহ জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোটকেন্দ্র ঝুঁকির তালিকায় রয়েছে।

মেঘনা উপজেলার নদীবেষ্টিত চালিভাঙ্গা ইউনিয়নের পাঁচটি ভোটকেন্দ্রে সেনাবাহিনীর টিমসহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ টহল থাকবে বলে জানিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মৌসুমী আক্তার।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও জেলা রিটার্নিং অফিসার মু. রেজা হাসান বলেন, বিগত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা থেকে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। তবে শুধু ঝুঁকিপূর্ণ নয়, জেলার সব ভোটকেন্দ্রেই শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন থাকবে।