আইআইএলডির জরিপ
নির্বাচনের আগে জরিপে বিএনপি–জামায়াতের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই, ভোটের ব্যবধান মাত্র ০.২%
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিচালিত এক প্রাক-নির্বাচনি জরিপে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে কড়া প্রতিদ্বন্দ্বিতার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। জরিপ অনুযায়ী, ৪৪ দশমিক ১০ শতাংশ ভোটার বিএনপি সমর্থিত জোটে এবং ৪৩ দশমিক ৯০ শতাংশ ভোটার জামায়াত সমর্থিত জোটে ভোট দিতে আগ্রহী।
জাগরণ ফাউন্ডেশন ও প্রজেকশন বিডির সহযোগিতায় ইন্টারন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল অ্যান্ড ডিপ্লোমেসি (আইআইএলডি) গত ২১ জানুয়ারি থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশের ৩০০ আসনে এই জরিপ পরিচালনা করে। এতে অংশ নেন মোট ৬৩ হাজার ৬১৫ জন ভোটার। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর পল্টনের একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত অনুষ্ঠানে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬: প্রাক-নির্বাচনি জনমত জরিপ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে আইআইএলডির নির্বাহী পরিচালক শফিউল আলম শাহীন জানান, এটি সংস্থাটির চূড়ান্ত নির্বাচনি জরিপ। এর আগে ১২ জানুয়ারি প্রথম দফার ফল প্রকাশ করা হয়েছিল।
তিনি জানান, প্রতিটি আসন থেকে ন্যূনতম ১০০ এবং সর্বোচ্চ ৩০০ জন ভোটারের মতামত নেওয়া হয়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে পুরুষ ভোটার ৫৭ দশমিক ৫৯ শতাংশ এবং নারী ভোটার ৪২ দশমিক ৪১ শতাংশ। বয়স, শিক্ষা, ধর্ম ও বিভাগভিত্তিক বিশ্লেষণও করা হয়েছে।
কোন দলে কত ভোট
জরিপ অনুযায়ী, জাতীয় পার্টির পক্ষে ভোট দিতে আগ্রহী ১ দশমিক ৭০ শতাংশ ভোটার এবং ৩ দশমিক ৮০ শতাংশ ভোটার স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সমর্থন দিতে চান। এখনও সিদ্ধান্তহীন রয়েছেন ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ ভোটার। জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের মতে, রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতার কারণে বিএনপি এগিয়ে রয়েছে, আর জামায়াত তুলনামূলকভাবে সৎ ও কম দুর্নীতিগ্রস্ত হওয়ায় সমর্থন পাচ্ছে।
শহর–গ্রামে ভিন্ন চিত্র
শহরাঞ্চলে ৪৬ শতাংশ ভোটার বিএনপি সমর্থিত জোটে এবং ৪২ শতাংশ জামায়াত সমর্থিত জোটে ভোট দিতে চান। গ্রামাঞ্চলে চিত্র উল্টো— সেখানে ৪৫ শতাংশ জামায়াত এবং ৪৩ শতাংশ বিএনপি সমর্থন পাচ্ছে।
আসন বিশ্লেষণ
জরিপে দেখা গেছে, আসন বিবেচনায় জামায়াত সমর্থিত জোট ১০৫টি আসনে এবং বিএনপি সমর্থিত জোট ১০১টি আসনে নিশ্চিতভাবে এগিয়ে রয়েছে। এছাড়া ৭৫টি আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই এবং ১৯টি আসনে স্বতন্ত্র ও অন্যান্য দলের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
ভোটারদের অগ্রাধিকার
জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের ৯২ দশমিক ৯০ শতাংশ ভোট দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। নির্বাচনের পর নতুন সরকারের কাছে ভোটারদের প্রধান দাবি দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ—এ বিষয়ে মত দিয়েছেন ৬৭ শতাংশ ভোটার। এর বাইরে আইনের শাসন, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও কাঠামোগত সংস্কারকে গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
প্রার্থীর যোগ্যতায় জোর
ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে ৭১ শতাংশ ভোটার প্রার্থীর যোগ্যতাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। দলের সিদ্ধান্তে প্রার্থী নির্বাচনের পক্ষে মত দিয়েছেন ৪৭ শতাংশ, আর দলের অভিজ্ঞতাকে বিবেচনায় রাখতে চান ৩৬ শতাংশ ভোটার।


