যুদ্ধ নাকি সমঝোতা, কোন পথে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান

যুদ্ধ নাকি সমঝোতা, কোন পথে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান
নিউজ ডেস্ক
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। ভূমধ্যসাগরে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ রণতরী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি আকাশ নজরদারির জন্য পাঠানো হয়েছে একাধিক ই-৩ সেন্ট্রি সতর্কীকরণ বিমান। বিশ্লেষকদের মতে, ২০০৩ সালের ইরাক আগ্রাসনের পর এ অঞ্চলে এটিই সবচেয়ে বড় মার্কিন সামরিক সমাবেশ।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ১০-১৫ দিনের মধ্যে ‘অর্থবহ চুক্তি’ করার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন। সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনায় অগ্রগতি না হলে “খারাপ কিছু” ঘটতে পারে। তবে অতীতে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের বিরোধিতা করা ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে এখন বড় প্রশ্ন—তারা কি সত্যিই সামরিক সংঘাতে যাবে?

বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের সঙ্গে পূর্ণমাত্রার যুদ্ধ শুরু হলে বৈশ্বিক তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হবে। দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ থেকে ২০০ ডলার পর্যন্ত উঠতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকেও চাপে ফেলবে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি সংঘাতের ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্ক থাকলেও দেশটির নেতৃত্ব প্রকাশ্যে আপসহীন অবস্থান নিয়েছে। তাদের দাবি, পারমাণবিক কর্মসূচি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়েছেন, আলোচনায় ‘শূন্য মাত্রায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ’ বন্ধের কোনো শর্ত নেই। বরং মূল লক্ষ্য হচ্ছে কর্মসূচি যাতে সামরিক রূপ না নেয়, তা নিশ্চিত করা।

মার্কিন গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটন প্রতীকী বা সীমিত মাত্রার ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ মেনে নেওয়ার সম্ভাবনাও বিবেচনা করছে, যদি তা থেকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথ বন্ধ থাকে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, আলোচনায় অচলাবস্থা তৈরি হলে যুক্তরাষ্ট্র প্রথমে সীমিত ও লক্ষ্যভিত্তিক হামলা চালাতে পারে—ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি ও সামরিক অবকাঠামোকে টার্গেট করে। তবে এমন পদক্ষেপ পাল্টা আঘাত ডেকে আনলে পরিস্থিতি দ্রুত বড় আকারের যুদ্ধে রূপ নিতে পারে।

উভয় পক্ষের কড়া বক্তব্যের মধ্যেও কূটনৈতিক তৎপরতা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। অর্থনৈতিক চাপ, জ্বালানি বাজারের ঝুঁকি এবং আঞ্চলিক অস্থিরতার আশঙ্কা—সব মিলিয়ে অনেক বিশ্লেষক মনে করছেন, শেষ পর্যন্ত একটি আপসের পথই তুলনামূলক বেশি সম্ভাব্য।

তবে মধ্যপ্রাচ্যের এই টানটান পরিস্থিতিতে যেকোনো ভুল হিসাব বড় সংঘাতে রূপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দিচ্ছেন না পর্যবেক্ষকরা।