যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের চুক্তি পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা হবে: বাণিজ্যমন্ত্রী
বিদায়ের প্রাক্কালে অন্তর্বর্তী সরকার যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছিল, তার প্রতিটি ধারা দেশের স্বার্থ রক্ষা নিশ্চিত করার জন্য নবনির্বাচিত সরকার পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই-বাছাই করবে। বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্য জানান নবনির্বাচিত বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
মন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নতুন ট্যারিফ নীতি এখনও বিকাশমান। “আমরা শুনেছি তারা সব দেশের জন্য ১৫ শতাংশ ট্যারিফ প্রবর্তনের কথা বলছে, তবে লিখিত কোনো নথি আমাদের হাতে পৌঁছায়নি,” তিনি বলেন। এর আগে নির্দিষ্ট দেশভেদে ১৯ শতাংশ পর্যন্ত রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ ছিল, যা এখন সকলের জন্য অভিন্ন হতে যাচ্ছে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বিষয়টিকে অত্যন্ত সংবেদনশীল উল্লেখ করে বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের ‘নন-ডিসক্লোজার অ্যাগ্রিমেন্ট’ ছিল। চুক্তির সব ধারা আমাদের পক্ষে বা বিপক্ষে হতে পারে। তাই সব দিক যাচাই করে দেশের স্বার্থে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” তিনি সাংবাদিকদের অনুরোধ করেন, এ বিষয়ে অতিরিক্ত মন্তব্যের জন্য চাপ না দিতে এবং সতর্ক অবস্থান বজায় রাখতে।
মন্ত্রী দেশের বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল উল্লেখ করে বলেন, বিদেশ থেকে যে পণ্য আসছে, সেগুলোর দাম নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করেন। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, ৪০-৫০ টাকার লেবু হঠাৎ ১২০ টাকায় যাওয়ার যৌক্তিক কারণ ছিল না; তিন দিনের মধ্যে দাম আবার স্বাভাবিক হয়ে এসেছে।
চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, “আমি শুধু মুখে আশ্বাস দেব না, বরং কাজের মাধ্যমে তা প্রমাণ করব।” এছাড়া সম্প্রতি টিসিবির পণ্য ক্রয়কালে হুড়োহুড়িতে দুই নারীর পড়ে যাওয়ার ঘটনাকে ‘অত্যন্ত দুঃখজনক’ বলে মন্তব্য করে বলেন, ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়াতে পণ্য বিতরণে আরও শৃঙ্খলা বজায় রাখা হবে।


