কাতারে যুক্তরাষ্ট্রের বিলিয়ন ডলারের রাডার ধ্বংসের দাবি ইরানের
উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় রাডার ধ্বংস করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরানের কয়েকটি গণমাধ্যম।
তেহরান টাইমস জানিয়েছে, ইরানের সেনাবাহিনীর বিশেষ বাহিনী ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি)–এর জনসংযোগ দপ্তরের বরাতে এ দাবি করা হয়েছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, উপসাগরীয় অঞ্চলে মোতায়েন যুক্তরাষ্ট্রের এএন/এফপিএস-১৩২ (AN/FPS-132) রাডার একটি নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ করা হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।
সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন: ফেসবুক– এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব
এএন/এফপিএস-১৩২ একটি অত্যাধুনিক আগাম সতর্কীকরণ রাডার, যা মূলত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত ও ট্র্যাক করার জন্য ব্যবহৃত হয়। প্রায় ৫ হাজার কিলোমিটার পর্যন্ত নজরদারি সক্ষমতা রয়েছে বলে দাবি করা হয়। এটি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র শনাক্ত করে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, রাডারটি আল উদেইদ বিমান ঘাঁটি–তে স্থাপন করা হয়েছিল। ২০১৩ সালে প্রায় ১.১ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এটি বসানো হয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কিছু কাতারি কর্মকর্তা ক্ষয়ক্ষতির কথা স্বীকার করেছেন বলেও দাবি করেছে আইআরজিসি-সংশ্লিষ্ট সূত্র, যদিও স্বাধীনভাবে তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
বিশ্লেষকদের মতে, রাডারটি সত্যিই ধ্বংস হয়ে থাকলে উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধাক্কা লাগতে পারে।
পরমাণু ইস্যুতে ওয়াশিংটন-তেহরান পরোক্ষ আলোচনার মধ্যেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। তেল আবিব এই অভিযানের নাম দিয়েছে ‘অপারেশন লায়নস রোর’, আর ওয়াশিংটন দিয়েছে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’।
ইরানের রাজধানী তেহরান–এ হামলায় দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি–সহ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি জানিয়েছে, গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া হামলায় দেশজুড়ে ৭৮০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
জবাবে ‘অপারেশন ট্রু প্রোমিস ৪’ নামে পাল্টা অভিযান শুরু করেছে ইরান। ইসরাইল ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন ঘাঁটিসহ নানা স্থাপনায় হামলা চালানোর দাবি করেছে আইআরজিসি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানি নেতৃত্ব উভয় পক্ষই ইঙ্গিত দিয়েছে, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে।

