জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় শ্রীলঙ্কায় সাপ্তাহিক ছুটি তিন দিন ঘোষণা
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সাপ্তাহিক ছুটি তিন দিন ঘোষণা করেছে শ্রীলঙ্কা সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সপ্তাহে বুধবার অতিরিক্ত ছুটি হিসেবে পালন করা হবে।
দেশটির প্রেসিডেন্ট অনুরা কুমারা দিশানায়েক বলেন, সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নেওয়া জরুরি। “আমাদের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে, যদিও আমরা ভালো কিছুর প্রত্যাশা করছি,”—বলেন তিনি।
নতুন এই সিদ্ধান্ত সরকারি দপ্তরের পাশাপাশি স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়েও কার্যকর হবে। তবে স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি সেবাসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো এই ছুটির আওতার বাইরে থাকবে।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালী-এ তেলের সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থেকে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। এর প্রভাব ইতোমধ্যে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে পড়তে শুরু করেছে।
থাইল্যান্ড-এ শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছে। মিয়ানমার-এ যানবাহন একদিন পরপর চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ-এ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছুটি এগিয়ে আনা এবং পরিকল্পিত লোডশেডিং চালু করা হয়েছে।
এছাড়া ফিলিপাইন-এ সরকারি দপ্তরে আংশিকভাবে বাসা থেকে কাজ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস জুনিয়র অপ্রয়োজনীয় সরকারি ভ্রমণ নিষিদ্ধ করেছেন।
অন্যদিকে ভিয়েতনাম সরকার নাগরিকদের জ্বালানি সাশ্রয়ে গণপরিবহন ব্যবহার, বাইসাইকেল চালানো এবং অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরান ও ইসরায়েল-এর মধ্যে সংঘাত শুরুর পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
এ পরিস্থিতিতে শ্রীলঙ্কায় ‘ন্যাশনাল ফুয়েল পাস’ চালুর মাধ্যমে জ্বালানি তেলের রেশনিং ব্যবস্থাও কার্যকর করা হয়েছে, যদিও এ নিয়ে জনমনে কিছু অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।


