দুদক ও গণভোট বিল ইস্যুতে সরকারের প্রস্তাবে জামায়াতের তীব্র আপত্তি
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও গণভোট বিল বাতিলের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।
বুধবার (২৫ মার্চ) সংসদ ভবনে অধ্যাদেশ পর্যালোচনা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান।
তিনি বলেন, দুই দিনের আলোচনায় ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে প্রায় ১১৫টির বিষয়ে ঐকমত্য হয়েছে। তবে ১৮ থেকে ২০টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে দলের আপত্তি রয়েছে। বিশেষ করে গণভোট বিল রহিত করার সরকারি প্রস্তাবকে তারা প্রত্যাখ্যান করেছে।
রফিকুল ইসলাম খান বলেন, “গণভোটের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বাতিল করা হলে জুলাই আন্দোলনের চেতনা ক্ষুণ্ন হবে।”
দুদক সংশোধনী প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, আগে কমিশনের চেয়ারম্যান নিয়োগে একটি সার্চ কমিটি থাকলেও নতুন প্রস্তাবে সেটি বাদ দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সরকার এককভাবে নিয়োগের ক্ষমতা নিতে চাচ্ছে, যা স্বাধীনতার পরিপন্থি বলে মনে করে দলটি।
এছাড়া পুলিশ প্রশাসনে নিয়োগ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, পেশাদারিত্বের পরিবর্তে সরকারের পছন্দকে প্রাধান্য দেওয়ার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে, যা গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
বৈঠকে দলের নায়েবে আমির মুজিবুর রহমান-সহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে রফিকুল ইসলাম খান বলেন, অতীতে এমন সংখ্যাগরিষ্ঠতার দোহাই দিয়ে অনেক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা সবসময় জনগণের জন্য কল্যাণকর হয়নি।
তিনি আরও জানান, যেসব বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে, সেগুলো নিয়ে আগামী ২৯ মার্চ আবার আলোচনা হবে এবং চূড়ান্ত প্রতিবেদন আগামী ২ অক্টোবর জমা দেওয়ার কথা রয়েছে।
জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো আইন বাতিলের প্রশ্নে আদালতের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ এবং একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ গ্রহণযোগ্য নয়।


