প্রখ্যাত পীরে কামেল মাওলানা আহমদ হোসাইন ইন্তেকাল করেছেন
নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান জামিয়া ক্বাওমীয়া দারুল উলুম সেহলা’র প্রিন্সিপাল ও প্রবীণ আলেমে দ্বীন মাওলানা আহমদ হোসাইন পীর সাহেব (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
শুক্রবার (৩এপ্রিল) সকাল ৬টা ৫০মিনিটে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৯৬বছর। তিনি ৪কন্যা ও ৭পুত্রসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী, ভক্ত ও শিক্ষার্থী রেখে গেছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্ট, ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও পায়ের বিভিন্ন জটিলতায় ভুগছিলেন।
মরহুমের জানাজার নামাজ আজ শুক্রবার বিকাল ৫টা ৩০মিনিটে সেহলা মাদরাসা মাঠে অনুষ্ঠিত হবে।
মাওলানা আহমদ হোসাইন পীর সাহেবের গ্রামের বাড়ি নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলা উপজেলার হোগলা ইউনিয়নের দামপাড়া গ্রামে। তিনি ১৯৩০ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন মাওলানা আব্দুল মান্নান। শিক্ষা জীবনে তিনি নিজ গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে ঘাগড়া দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণি পর্যন্ত অধ্যয়ন করেন। পরবর্তীতে সেহলা মাদরাসায় ভর্তি হয়ে ধর্মীয় শিক্ষায় আত্মনিয়োগ করেন।
পরে তিনি বালিয়া, ইসলামপুর ও সোহাগী মাদরাসায় অধ্যয়ন শেষে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি তারাকান্দা উপজেলার টিলাটিয়া মাদরাসায় শিক্ষকতা করেন। পরবর্তীতে জামিয়া ক্বাওমীয়া দারুল উলুম সেহলা’য় যোগ দিয়ে দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেন এবং পরবর্তীতে প্রতিষ্ঠানের প্রধান শায়খুল হাদিস ও প্রিন্সিপাল হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি ময়মনসিংহ বিভাগের একজন সুপরিচিত আলেম হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি ময়মনসিংহ বড় মসজিদের সাবেক পেশ ইমাম মাওলানা ফয়জুর রহমান (রহ.)-এর কাছ থেকে খেলাফত গ্রহণ করেন। তার অসংখ্য ছাত্র ও মুরিদ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে রয়েছে।
ধর্মীয় কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি তিনি বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের রাজনীতির সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন এবং চারদলীয় জোটের সময় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
তাঁর মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন সর্বস্তরের জনগণ, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মোহতামিম, অধ্যক্ষ, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সহ রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।


