ইরান যুদ্ধবিরতি ‘ভিক্ষা’ চেয়েছে, মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দাবি
ইরান যুদ্ধবিরতি ভিক্ষা চেয়েছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাদের প্রতি ‘ক্ষমা’ করেছেন। নয়তো যুক্তরাষ্ট্র চাইলে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, ব্রিজ ও তেলক্ষেত্রে হামলা চালিয়ে ভয়াবহ ধ্বংসযজ্ঞ চালাতে পারত। বুধবার (৮ এপ্রিল) সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ এ দাবি করেন।
আলজাজিরার প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আরও বড় ধরনের হামলা চালানো হতো। সম্ভাব্য লক্ষ্য হিসেবে ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র, সেতু এবং তেল-জ্বালানি অবকাঠামোর কথা উল্লেখ করেন তিনি। তার দাবি, এসব স্থাপনায় হামলা হলে দেশটির পুনর্গঠনে কয়েক দশক সময় লাগতে পারত।
হেগসেথ আরও বলেন, এই যুদ্ধবিরতির অন্যতম শর্ত হলো—ইরান আর ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম চালাতে পারবে না।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একই ইস্যুতে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, ইরানকে কোনোভাবেই ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করতে দেওয়া হবে না। তবে একটি সমঝোতা হলে দেশটির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সম্ভাবনাও রয়েছে।
আগামী ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদ-এ অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকের আগে ট্রাম্প তার প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট করেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে তিনি দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী এবং সেখানে ইতোমধ্যে “কার্যকর সরকার পরিবর্তন” ঘটেছে বলে তিনি মনে করেন।
তবে ইরানের পক্ষ থেকে এসব বক্তব্যের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরিস্থিতি এখনো সংবেদনশীল এবং সম্ভাব্য আলোচনাই নির্ধারণ করবে পরবর্তী কূটনৈতিক অগ্রগতি।


