ডেনিম রপ্তানিতে শীর্ষে বাংলাদেশ, ইইউ-যুক্তরাষ্ট্রে আয় বেড়ে ২৬০ কোটি মার্কিন ডলার

ডেনিম রপ্তানিতে শীর্ষে বাংলাদেশ, ইইউ-যুক্তরাষ্ট্রে আয় বেড়ে ২৬০ কোটি মার্কিন ডলার
নিউজ ডেস্ক
১৮ এপ্রিল ২০২৬

বিশ্ব ডেনিম বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে বাংলাদেশ। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ও যুক্তরাষ্ট্র—এই দুই বৃহৎ বাজারে ডেনিম পোশাক রপ্তানিতে শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে দেশটি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত বছরে এই দুই বাজারে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানি পৌঁছেছে প্রায় ২৬০ কোটি মার্কিন ডলারে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৫ শতাংশ বেশি।

ইউএস ডিপার্টমেন্ট অব কমার্স–এর আওতাধীন অফিস অব টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল (অটেক্সা) এবং ইউরোস্ট্যাট–এর তথ্য বলছে, যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের ডেনিম রপ্তানি হয়েছে ৯৬ কোটি ডলার। এই বাজারে প্রায় ২৬ শতাংশ শেয়ার নিয়ে শীর্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। একই সময়ে ইইউতে রপ্তানি হয়েছে ১৬৪ কোটি ডলার, যেখানে প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ২১ শতাংশ।

বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছে মেক্সিকো, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, তুরস্ক ও কম্বোডিয়া। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা মেক্সিকো রপ্তানি করেছে ৬৪ কোটি ডলারের ডেনিম পণ্য। অন্যদিকে ভিয়েতনাম ও পাকিস্তানের রপ্তানি প্রায় ৫০ কোটি ডলারের কাছাকাছি। ইইউ বাজারে বাংলাদেশের পরেই রয়েছে পাকিস্তান, যাদের রপ্তানি ১০৩ কোটি ডলার।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

খাত সংশ্লিষ্টরা জানান, গত দেড় দশকে দেশে ডেনিম শিল্পে উল্লেখযোগ্য বিনিয়োগ হয়েছে। একসময় যেখানে ডেনিম কাপড় উৎপাদনকারী মিলের সংখ্যা ছিল মাত্র ১০-১২টি, বর্তমানে তা বেড়ে প্রায় ৫০-এ পৌঁছেছে। স্থানীয় উৎপাদনের সক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে এখন মোট চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ দেশেই পূরণ হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তুলনামূলক কম উৎপাদন ব্যয়, সহজলভ্য গ্যাস ও পানি, এবং বৈশ্বিক সরবরাহ শৃঙ্খলের পরিবর্তনের ফলে বাংলাদেশ এই সাফল্য অর্জন করেছে। বিশেষ করে চীন থেকে কিছু ক্রয়াদেশ সরে এসে বাংলাদেশে আসায় রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

এছাড়া ঢাকায় নিয়মিত আন্তর্জাতিক ডেনিম প্রদর্শনী আয়োজনের মাধ্যমে বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে দেশীয় উদ্যোক্তাদের যোগাযোগ বাড়ছে। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থার কারণে পণ্যের মানও উন্নত হয়েছে বলে মনে করছেন উদ্যোক্তারা।

তবে খাতটির টেকসই উন্নয়নের জন্য পরিবেশবান্ধব উৎপাদন, শ্রমমান উন্নয়ন এবং পণ্যের বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।