৬ মে দেশে পৌঁছাবে এক লাখ টন ক্রুডবাহী ট্যাংকার ‘এমটি নিনেমিয়া’
সৌদি আরব থেকে এক লাখ টন অপরিশোধিত জ্বালানি তেল (ক্রুড) নিয়ে ট্যাংকার জাহাজ ‘এমটি নিনেমিয়া’ আগামী ৬ মে বাংলাদেশে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ইতোমধ্যে জাহাজটি আরব সাগরে অবস্থান করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।
বাংলাদেশ শিপিং কর্পোরেশন (বিএসসি) সূত্রে জানা গেছে, জাহাজটি গত ২০ এপ্রিল সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে যাত্রা শুরু করে। মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান অস্থির পরিস্থিতির কারণে লোহিত সাগর ও গালফ অব এডেন পাড়ি দেওয়ার সময় নিরাপত্তাজনিত কারণে জাহাজটির অটোমেটেড ট্র্যাকিং সিস্টেম (AIS/IAS) আংশিকভাবে বন্ধ রাখা হয়।
বিএসসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চল অতিক্রমকালে জাহাজের অবস্থান গোপন রাখা একটি প্রচলিত নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে ওই অঞ্চলে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ায় এ ধরনের সতর্কতা নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, জ্বালানি সরবরাহে অনিশ্চয়তার মধ্যে জাহাজটির আগমনকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশন (বিপিসি) আমদানিকৃত ক্রুড অয়েলের ওপরই মূলত নির্ভরশীল। এসব ক্রুড পরিশোধন করা হয় দেশের একমাত্র রিফাইনারি ইস্টার্ন রিফাইনারিতে।
সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির কারণে কয়েকটি নির্ধারিত জাহাজ বিলম্বিত বা বাতিল হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে ‘এমটি নিনেমিয়া’র নির্ধারিত সময়ে পৌঁছানো জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্বস্তি আনতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
চট্টগ্রাম বন্দরে ইতোমধ্যে কয়েকটি জাহাজ জ্বালানি খালাসের অপেক্ষায় রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, নতুন চালান যুক্ত হলে সরবরাহ পরিস্থিতি আরও স্থিতিশীল হবে।
বিশ্ববাজারে তেল পরিবহনের জন্য হরমুজ প্রণালি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রুট। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনার প্রভাব এই রুটে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর পড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে আমদানিনির্ভর দেশগুলোর জ্বালানি সরবরাহেও।
সব মিলিয়ে, নির্ধারিত সময়ে ‘এমটি নিনেমিয়া’ বাংলাদেশে পৌঁছালে চলমান জ্বালানি সংকট কিছুটা হলেও প্রশমিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।


