বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, মিলেছে স্বস্তির খবরও

জাতীয়
বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব, মিলেছে স্বস্তির খবরও
নিউজ ডেস্ক
৬ মে ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সংঘাতের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা দেখা দেওয়ায় এর প্রভাব পড়েছে দেশীয় বিদ্যুৎ খাতেও। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে এবার বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

বর্তমানে দেশে খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় মূল্য ৮ টাকা ৯৫ পয়সা। এ অবস্থায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড পাইকারি ও খুচরা—উভয় পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ১৭ থেকে ২১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে। তবে নিম্ন আয়ের ‘লাইফলাইন’ গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুতের দাম অপরিবর্তিত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব নিয়ে মঙ্গলবার (৫ মে) বৈঠক করেছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন। সংস্থাটি বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য একটি কারিগরি কমিটি গঠন করেছে।

সাবাহ নিউজ এর গুরুত্বপূর্ন সংবাদ পেতে আমাদের সাথেই থাকুন:  – এক্স– লিংকডইন– ইন্সটাগ্রাম– ইউটিউব

বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ জানিয়েছেন, প্রস্তাবগুলো বর্তমানে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণে রয়েছে। তিনি বলেন, ঈদুল আজহার আগে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। তবে জুন মাস থেকে নতুন দর কার্যকর হতে পারে বলে ইঙ্গিত রয়েছে।

পিডিবির প্রস্তাব অনুযায়ী পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিটে ১.২০ থেকে ১.৫০ টাকা পর্যন্ত বাড়তে পারে। খুচরা পর্যায়ে প্রতি ইউনিটে সর্বোচ্চ ১.৩৮ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি হতে পারে।

এদিকে নর্দান ইলেকট্রিক সাপ্লাই কোম্পানি ইতোমধ্যে খুচরা মূল্যবৃদ্ধির প্রস্তাব জমা দিয়েছে। পাশাপাশি পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি সঞ্চালন চার্জ প্রতি ইউনিটে ১৬ পয়সা বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে।

যেসব গ্রাহক মাসে ৭৫ ইউনিটের কম বিদ্যুৎ ব্যবহার করেন, অর্থাৎ ‘লাইফলাইন’ গ্রাহক—তাদের জন্য বিদ্যুতের দাম অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে নিম্ন আয়ের মানুষের ওপর চাপ কিছুটা কম থাকবে।

সবশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন পাইকারি পর্যায়ে ৫ শতাংশ এবং খুচরা পর্যায়ে গড়ে ৮ শতাংশ দাম বৃদ্ধি পায়। বর্তমানে পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম ৭ টাকা ৪ পয়সা।

বর্তমানে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে চুক্তিভিত্তিক দামে বিদ্যুৎ কিনে তা বিতরণ সংস্থাগুলোর কাছে বিক্রি করে। উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে পার্থক্যের কারণে সংস্থাটিকে ভর্তুকির ওপর নির্ভর করতে হয়।