বিবাহের সরকারি নিবন্ধন ডিজিটালাইজড করা সময়ের দাবি
বাংলাদেশ ডিজিটাল সেবায় অনেক দূর এগোলেও বিবাহ নিবন্ধন ব্যবস্থা এখনও পুরোপুরি আধুনিক ও নাগরিকবান্ধব হয়ে উঠেনি। জন্মনিবন্ধন, জাতীয় পরিচয়পত্র, পাসপোর্ট ও ভূমি সেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো ধীরে ধীরে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে এলেও বিবাহ নিবন্ধনের ক্ষেত্রে এখনও কাগজপত্র ও দীর্ঘসূত্রতার অভিযোগ রয়েছে। তাই বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিবাহের সরকারি নিবন্ধন সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড করা এখন সময়ের দাবি।
বর্তমানে সরকার “বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন ব্যবস্থা” নামে একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্ম চালু করেছে, যেখানে নাগরিকরা নিবন্ধনের জন্য তথ্য প্রদান ও ডিজিটাল ডাটাবেইসে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
এছাড়া আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে সারাদেশের বিবাহ নিবন্ধকদের ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডারও তৈরি করা হয়েছে।
তবে বাস্তবতায় এখনও অনেক এলাকায় কাগজভিত্তিক প্রক্রিয়া চালু রয়েছে। ফলে সনদ হারিয়ে গেলে পুনরায় সংগ্রহে ভোগান্তি পোহাতে হয়। বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের ক্ষেত্রেও ডিজিটাল সেবার সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন ফোরামগুলোতে এ নিয়ে নানা ভোগান্তির কথা উঠে এসেছে।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিবাহ নিবন্ধন পুরোপুরি ডিজিটাল হলে জাল সনদ তৈরি, তথ্য গোপন, একাধিক বিয়ে কিংবা বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখা সম্ভব হবে। জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধনের সঙ্গে তথ্য সংযুক্ত থাকলে বয়স যাচাই সহজ হবে এবং স্বচ্ছতা বাড়বে।
এ বিষয়ে উচ্চ আদালতও গুরুত্বারোপ করেছে। সম্প্রতি হাইকোর্ট বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন ডিজিটালাইজেশনের নির্দেশনা দিয়ে বলেছে, সব নাগরিক যেন এই সুবিধা পায় তা নিশ্চিত করতে হবে।
তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একটি সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করা গেলে ঘরে বসেই আবেদন, ফি পরিশোধ, যাচাই ও সনদ সংগ্রহ সম্ভব হবে। এতে সময় ও খরচ কমার পাশাপাশি দুর্নীতিও হ্রাস পাবে।
“স্মার্ট বাংলাদেশ” গড়ার লক্ষ্যে সরকারি সেবাগুলোকে প্রযুক্তিনির্ভর করার যে উদ্যোগ চলছে, তার অংশ হিসেবেই বিবাহ নিবন্ধন ব্যবস্থাকে শতভাগ ডিজিটাল করার দাবি এখন জোরালো হয়ে উঠেছে। নাগরিকবান্ধব, স্বচ্ছ ও নিরাপদ সেবা নিশ্চিত করতে এ খাতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।


