ডিমের কুসুম সবার জন্য উপকারী নয়? যাদের সতর্ক থাকা উচিত
ডিমকে পুষ্টিকর খাবারের অন্যতম উৎস হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন ও খনিজ উপাদান রয়েছে। তবে ডিমের কুসুমে তুলনামূলক বেশি কোলেস্টেরল ও চর্বি থাকায় কিছু ক্ষেত্রে এটি খাওয়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা।
তবে মনে রাখতে হবে, সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে অধিকাংশ সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে খাদ্য থেকে পাওয়া কোলেস্টেরল রক্তের কোলেস্টেরলের ওপর সীমিত প্রভাব ফেলে। তাই ডিমের কুসুম পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন সাধারণত হয় না।
যাদের ক্ষেত্রে সতর্কতা প্রয়োজন
হৃদরোগ বা উচ্চ কোলেস্টেরল থাকলে
হৃদরোগ, উচ্চ এলডিএল কোলেস্টেরল বা হৃদ্রোগের ঝুঁকি বেশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডিমের কুসুম খাওয়ার পরিমাণ নির্ধারণ করা উচিত।
ডায়াবেটিস রোগী
ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সামগ্রিক খাদ্যাভ্যাস ও হৃদ্রোগের ঝুঁকি বিবেচনা করে ডিম খাওয়া উচিত। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
লিভার বা পিত্তথলির কিছু সমস্যায়
ফ্যাটি লিভার বা পিত্তথলির কিছু জটিলতায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য বিশেষ খাদ্যনিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন হতে পারে। সেক্ষেত্রে কুসুম খাওয়ার বিষয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করা উচিত।
ওজন নিয়ন্ত্রণে থাকলে
ডিমের কুসুমে ক্যালোরি ও চর্বি তুলনামূলক বেশি থাকায় ওজন কমানোর বিশেষ ডায়েট অনুসরণকারীরা কুসুমের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন।
কারা খেতে পারেন?
পুষ্টিবিদদের মতে, অধিকাংশ সুস্থ মানুষ পরিমিত পরিমাণে ডিমের কুসুম খেতে পারেন। ডিমের কুসুমে ভিটামিন এ, ডি, ই, বি-১২, কোলিন এবং গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে, যা শরীরের জন্য উপকারী।
নিয়মিত শরীরচর্চা করেন বা সক্রিয় জীবনযাপন করেন— এমন ব্যক্তিরাও পরিমিত পরিমাণে ডিমের কুসুম খেতে পারেন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, কোনো স্বাস্থ্যসমস্যা থাকলে নিজ উদ্যোগে ডিমের কুসুম বাদ না দিয়ে চিকিৎসক বা নিবন্ধিত পুষ্টিবিদের পরামর্শ অনুযায়ী খাদ্যতালিকা নির্ধারণ করা উচিত।


